বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

সরাইলে বিএনপি নেতার বিরূদ্ধে রাস্তা কাটার চেষ্টার অভিযোগ

Muktir Lorai / ১২৫ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলের চুন্টা ইউনিয়নে গ্রামবাসীর উদ্যোগে নোয়াহাটি গ্রামে ১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মিত হয়েছে। ব্যবসায়ি মো. গিয়াস উদ্দিনের উদ্যোগে ও সহযোগিতায় ওই রাস্তা নির্মাণে ১৭-১৮ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে জায়গা দিয়েছেন।

এখন সুফল পাচ্ছেন ওই গ্রামের সকল বাসিন্ধা ও শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিএনপি নেতা আক্তার হোসেনের নির্দেশে দুলাল মিয়া ও মাহতাব মিয়ার নেতৃত্বে গ্রামের একটি গ্রুপ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বেকু দিয়ে রাস্তাটি কেটে ফেলার প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ ঘটনায় ওই গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সরজমিনে গিয়ে ও গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নোয়াহাটি গ্রামের লোকজন অনেক বছর ধরে একটি রাস্তার সমস্যায় ভুগছিলেন। রাস্তার সমস্যায় গর্ভবতী মহিলা বৃদ্ধ রোগী ও শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ চরমে পৌছায় ।

গ্রামের বাসিন্ধা গিয়াস উদ্দিন সকলকে নিয়ে আলোচনা করে নোয়াহাঁটি থেকে রসুলপুর-আজবপুর সড়কে যুক্ত হবে এমন রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। রাস্তাটি নির্মাণ হলে শুধু নোয়াহাটি নয়। আজবপুর, পানিশ্বর, দেওবাড়িয়া, তারাখোলা, নরসিংহপুর ও শাখাইতিসহ ৮-১০ গ্রামের মানুষের উপকারে আসবে। পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলির সমর্থনে শুরু করেন কাজ। মাত্র ২০-২৫ দিনের মধ্যে ১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করেন।

সম্প্রতি রাস্তা নির্মাণ নিয়ে ক্ষুদ্ধ মনোভাব প্রকাশ করেন গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক মো. আক্তার হোসেন। উনার জমির অংশ থেকে রাস্তা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। এ ঘোষণা বাস্তবায়নে ওঠে পড়ে লেগেছেন গ্রামের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা বেকু ব্যবসায়ি দুলাল মিয়া ও মাহতাব মিয়ার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ । মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ওই রাস্তা কাটার জন্য নৌকায় করে একটি বেকু নিয়ে আসেন দুলাল মিয়া। এ খবরে গ্রামের অনেক লোক রাস্তায় অবস্থান নিতে থাকেন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বেকুটি রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছেন। এমন সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বেকু বোঝাই নৌকাটি সরিয়ে ফেলেন দুলাল। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছেন ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. হাবিবুর রহমান ও ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা এস আই মো. জসিম। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম, নূরুল আমীন, মাসুক মিয়া, লাল মিয়া, শাহআলম, ইউনুছ মিয়া, আব্দুল, সাদ্দাম মিয়া, নরসিংহপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সী, আতর আলী, মুসা মিয়া, পানিশ্বরের বর্জু মিয়া, সুবহান ফকির ও যাত্রাপুরের নূরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা হয়েছে এইটা খুশির সংবাদ। আমাদের জায়গা বিনামূল্যে দিয়েছি। সকলে মিলে স্বেচ্ছায় শ্রমও দিয়েছি। আক্তার মিয়া অনেক টাকার মালিক। সে নিজেই তো রাস্তাটি করতে পারতেন, করেননি। এখন জায়গা দিবেন না, রাস্তা কেটে ফেলবেন। উনি জায়গা দিতে না চাইলে সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তা কেটে ফেলবেন এটা গ্রামবাসী কখনো মেনে নিবেন না। আর দুলাল ষড়যন্ত্র করছে রাগে। তার বেকু দিয়ে রাস্তার মাটি কাটা হল না কেন?

আক্তার হোসেনের আপন বড় ভাই ছাদেক মিয়া (৭৬) বলেন, কেউ দুনিয়াতে থাকব না। এটা সদকে জারিয়ার কাজ। আমার ৪-৫ কানি জায়গা পড়েছে, কোন আপত্তি নেই। স্বেচ্ছায় দিয়েছি। রাস্তা হওয়ায় এখন পাশের জমির মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। কারণ এখন রাস্তার দু’পাশে বাড়ি হবে, আমরা শান্তি চাই।

সর্দার ওয়াহিদ মিয়া বলেন, সকলের মতামত নিয়ে রাস্তা করেছে গিয়াস। গিয়াস ও আক্তার সম্পর্কে আপন চাচা ভাতিজা। আক্তার হোসেন রাস্তা নির্মাণ কমিটির সভাপতিও। কিন্তু এরপরও উনি যেন কেন বাঁধা দিচ্ছেন। মনে হয় মাঝখানে কোন ষড়যন্ত্র কাজ করছে।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, রাস্তার জন্য আমরা শিক্ষা চিকিৎসা যোগাযোগ বিয়ে শাদী সকল ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছি। তাই গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে কাজটি করেছি। দুলালের সাথে অনেকবার রাস্তা নিয়ে কথা হয়েছে। দুলাল আনজুরা এখন ষড়যন্ত্র করছে। তারা দাঙ্গা লাগিয়ে খুন খারাবি করাতে চাইছে। চাইলে তাদের জায়গা থেকে মাটি সরিয়ে ফেলব। তবুও শান্তি চাই।

অভিযুক্ত দুলাল মিয়া বলেন, গিয়াস উদ্দিন গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেননি। নিজের ইচ্ছামত রাস্তা করেছেন। আমার বেকু দিয়ে মাটি কাটার কথা ছিল। অন্য বেকু দিয়ে মাটি কেটেছেন। আমি বেকুর ব্যবসা করি। আক্তার মিয়া বলেছেন উনার জমির উপরের মাটি কেটে ফেলতে। তাই আজ বেকু এনেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বিএনপি নেতা মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমাকে গিয়াস কিছুই বলেনি। সে খালের উত্তর পাশে বাড়ি করেছে। রাস্তা করেছে তার সুবিধার্থে। গ্রামের কোন উপকারে আসবে না। আমার জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা নিতে দিব না।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »