গণ শিক্ষা প্রতিন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টা

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ গণ শিক্ষা প্রতিন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে কালের কণ্ঠ পত্রিকার কুড়িগ্রামের আঞ্চলিক প্রতিনিধি কুদ্দুস বিশ্বাসের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। এসময় ১৫/১৬ জনর একটি ক্যাডার বাহিনী রৌমারী উপজেলার সামনে ওই সাংবাদিকের অফিস কাম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। হুমকি দিয়ে বলা হয় মন্ত্রী জাকির হোসেন এর বিরুদ্ধ নিউজ করার সাহস হলো তোর কি করে। এর কিছুক্ষন পর ওই বাহিনীর সদস্যরা অফিসের কাগজপত্র এবং কুরিয়ার সার্ভিসের জিনিসপত্র বাইরে বের করে অফিস তালা লাগিয়ে দেয়। গণ শিক্ষা প্রতিন্ত্রীর ভাই মারুফ আহমদ সিক্ত মন্ডল উপস্তিত থেকে বুধবার দুপুর দুইটার দিকে ওই ঘটনা ঘটায়।

এ খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল যাওয়ার আগেই অভিযুক্তরা অনেকেই চলে যায়। তবে প্রতিমন্ত্রীর ভাই মারুফ আহমদ সিক্ত মন্ডল পুলিশকে উল্টো বোঝানোর চেষ্টা করেন। এসময় মারুফ ওই সাংবাদিকর নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দৈনিক কালোর কণ্ঠ পত্রিকার শেষের পাতায় ‘রৌমারী-রাজিবপুরে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, সোয়া কোটি টাকা বরাদ্দ, কর্মকর্তাদের আপত্তি, প্রশাসনকে চাপ প্রতিমন্ত্রীর শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবদন প্রকাশ হয়। এ সংবাদে এলাকার হাজারো পাঠক খুশি হয় এবং মুহুর্তের মধ্যে পত্রিকা বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এরই জের ধরে ওই সাংবাদিককে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল প্রতিমন্ত্রীর ক্যাডার বাহিনী। ভয়ে সাংবাদিক তিনদিন অফিস করেননি। ঘটনার দিন কৌশলে সাংবাদিক পালিয়ে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়।

এদিকে সাংবাদিক অফিস কাম কুরিয়ার সার্ভিসের কিছু জরুরী ডকুমেন্টস ডেলিভারি করতে অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ভাই মারুফ আহমদ সিক্ত মন্ডলের নির্দেশে সাইদুর, হাবিবুর, হাফিজ, জব্বারসহ ১৫/১৬ জনের বাহিনী ওই হামলা চালায়।

ওই ঘটনার পর সাংবাদিকরা উপস্তিত হয়ে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস বলন, ‘ওটা আমার ব্যক্তিগত অফিস কাম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হামলার পর অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।’

রৌমারী থানার ওসি মোনতাছির বিল্লাহ বলন, ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি ফোর্স পাঠিয়ছি। লিখিত অভিযোগ হাতে পেলে মামলা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি আমি জানি না।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব নীলু ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *