গাঁজা চুরির অভিযোগে পুলিশের এসআই এর নামে মামলা

ডেস্ক রিপোর্টঃ পাবনা সদর থানা পুলিশের উপ-পরির্দশক (এসআই) ওসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা গাঁজা চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক জিন্নাত সরকার বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় এ মামলা করেন। গ্রেফতার এসআই ওসিম চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুহুদা থানার কেশবপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল পাবনা সদর থানার তিনগাছা রাজাপুর গ্রামের চম্পা খাতুনের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত এসআই ওসিম উদ্দিন ৫ কেজি গাঁজাসহ এক আসামিকে আটক করে সদর থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম জানতে পারেন যে, এসআই ওসিম বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে মাত্র পাঁচ কেজি গাঁজাসহ মামলার আসামিকে চালান করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সোমবার (২৬ এপ্রিল) পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোকনুজ্জামানসহ গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত এসআই ওসিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাবনা সদর থানা ভবনের ২য় তলার একটি কক্ষের ওয়াল কেবিনেট থেকে কয়েকটি লাল পলি ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় প্রায় ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় এসআই ওসিম অসাধুপায়ে বিক্রির উদ্দেশে গাঁজাগুলি নিজ হেফাজতে রেখেছিল বলে স্বীকার করে। এই মাদক বিক্রি চক্রের সাথে ওই থানার অজ্ঞাতনামা আরও সদস্য যুক্ত থাকতে পারে বলেও এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে তিনি থানা হেফাজতে কীভাবে মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রাখা হলো কিংবা এই চক্রের সাথে কারা জড়িত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম বলেন, পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্ত এসআই ওসিমকে পাবনা সদর থানা থেকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। তদন্তে প্রমান পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক নিয়মিত মামলা দায়েরের পর জেল হাজতে পাঠানো হয়। একই সাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *