কুড়িগ্রামে প্রায় ৮ হাজার মানুষের দ্বিতীয় ডোজ টিকা অনিশ্চিত

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রথম ডোজ নেওয়া টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার জনের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সরকারের চলমান তৎপরতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই টিকার সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় মোট ৮ হাজার ৫০০ ভায়ালে ৮৫ হাজার ডোজ টিকা সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৪৬ হাজার ১২৮ জন। আর গতকাল (২৮ এপ্রিল) বুধবার পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন ২১ হাজার ১৪৪ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে জেলায় মোট ৬৭ হাজার ২৭২ ডোজ টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখনও ২৪ হাজার ৯৮৪ জনের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ বাকি রয়েছে। অন্যদিকে, ডোজের হিসেবে জেলায় অবশিষ্ট রয়েছে ১৭ হাজার ৭২৮ ডোজ (অপচয় হওয়া ডোজের সংখ্যাসহ)। সে হিসেবে প্রথম ডোজ গ্রহণকারী প্রায় ৮ হাজার জনের দ্বিতীয় ডোজের টিকা সংকট রয়েছে।

তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভ্যাকসিন স্টোরের তথ্য মতে বুধবার (২৮ এপ্রিল) পর্যন্ত স্টোরে কেবল মাত্র ৭৫০টি ভায়াল (৭ হাজার ৫শ’ ডোজ) অবশিষ্ট রয়েছে। এছাড়াও উপজেলাগুলোতে কিছু ভায়াল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সেগুলো দিয়েও প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের দ্বিতীয় ডোজের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এছাড়াও কিছু ডোজের অপচয়তো রয়েছেই। সে হিসেবে দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে টিকা সংকটে দ্বিতীয় ডোজ না পেলেও প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের ভ্যাকসিনেশন বিফলে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন,‘প্রথম ডোজ গ্রহণ করার পর একজন মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রায় ৪০ ভাগ অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে। এরপর এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া বারণ রয়েছে। ১২ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর শরীরে প্রায় ৭০ ভাগ করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে। কোনও কারণে দ্বিতীয় ডোজ দিতে ব্যর্থ হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেহে প্রথম ডোজের কারণে কিছু না কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। ফলে ভ্যাকসিন বিফলে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

তবে সরকারের গৃহীত তৎপরতা ও কার্যক্রমে দ্রুততম সময়ে দেশে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশবাদ ব্যক্ত করেন এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।

জেলায় ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে টিকার কী পরিমাণ ডোজ নষ্ট হয়েছে সে হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান। তিনি অপচয়ের হিসাব প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এই (অপচয়ের) হিসাবটা দিতে চাচ্ছি না। আমাদের কার্যালয়ের স্টোরে এখনও ৭৫০টি ভায়াল রয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের সংকট থাকলেও আশা করি সরকারের চলমান তৎপরতায় খুব শিগগির আরও টিকা আমরা পেয়ে যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *