স্পিরুলিনার চাষে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন ফুলবাড়ীর ৭ উদ্যোক্তা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিমভাবে স্পিরুলিনার বাণিজ্যিক উৎপাদন হচ্ছে কুড়িগ্রামের জেলার ফুলবাড়ী উপজেলোর প্রাণকৃষ্ণ গ্রামে। ৭ জন উদ্যোক্তা যৌথভাবে স্পিরুলিনার বাণিজ্যিক চাষ শুরু করছেন।দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ স্বপ্ন দেখছেন লাখ টাকা আয়ের। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এগ্রো কোম্পানি নামে একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান বাড়ির পরিত্যক্ত ধানের চাতালে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সমুদ্রের শৈবাল (স্পিরুলিনা) চাষ বাণিজ্যিক শুরু করেছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ প ম জামাল উদ্দিনের পরামর্শে কোম্পানিটি ২৪ হাজার লিটার পানিতে স্পিরুলিনা উৎপাদন করছে যা বাংলাদেশে প্রথম এতো বড় কৃত্রিমভাবে স্পিরুলিনার বাণিজ্যিক উৎপাদন।

স্পিরুলিনার যোগান মেটাতে দেশের নাম করা ওষুধ কোম্পানি গুলোকে বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশে স্পিরুলিনার চাষ হলে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে এবং বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে উদ্যোক্তারা চাষ করছেন।স্পিরুলিনা বাংলাদেশে গ্রীন ডায়মন্ড নামে পরিচিত। স্পিরুলিনা হলো অতি ক্ষুদ্র নীলাভ সবুজ শৈবাল যা সূর্যালোকের মাধ্যমে দেহের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে।এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খনিজ পদার্থ।

এটি মানুষের দেহের জন্য খুবই উপকারী। প্রতি সপ্তাহে পাম্পের মাধ্যমে ২৪ হাজার পানির হাউজ থেকে শৈবাল তুলে মেশিনের মাধ্যমে হারভেস্টিং করে ২৪ কেজি স্পিরুলিনা উৎপাদন করছেন এগ্রো কোম্পানির ৭ উদ্যোক্তারা। আর প্রতি কেজি স্পিরুলিনা পাইকারী বিক্রি করছেন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা।

উদ্যোক্তাদের একজন এরশাদ হোসেন জানান, দেশের বাজারে স্পিরুলিনার চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। সে বিবেচনায় দেশে স্পিরুলিনার বাণিজ্যিক উৎপাদন নেই। স্পিরুলিনার চাহিদা মেটাতে দেশের নাম করা ওষুধ কোম্পানি গুলোকে বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশে স্পিরুলিনার চাষ হলে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে। বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।উদ্যোক্তা জাকির সরকার বলেন, অনেক জিনিসই বিদেশ থেকে আমদানি করে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে হয়। আমরা চাই দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করে বেকার সমস্যার সমাধান করতে। বেকার যুবকরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোক্তা হলে একদিকে যেমন আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় অপরদিকে আর্থিকভাবেও সচ্ছলতা ফিরে আসে।

ফুলবাড়ী এগ্রো প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সেলিম রেজা জানান, আমরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পিরলিনার উপর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তিনি জানালেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ প ম জামাল উদ্দিন স্যার স্পিরুলিনার প্রসারে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে সহায়তা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে স্পিরুলিনা উৎপাদন করে দেশের পুষ্টি দাহিদা পূরণ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করার স্বপন দেখছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকতার্ মাহাবুবুর রশীদ জানান, স্পিরুলিনা সামুদ্রিক শৈবাল এটি বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে, স্পিরুলিনাকে সুপার ফুড বলা হয়। এটি মানুষের দেহের জন্য খুবই উপকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *