সরাইলে একটি সেলাই মেশিনের জন্য তিন ঘন্টা প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে মৎস্যজীবীরা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ২ শতাধিক মৎস্যজীবীকে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। কিন্তু পূর্ব ঘোষিত সময় সকাল ১০টার অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয়েছে ১২টায়।
সকাল থেকে প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। আর যিনি প্রধান অতিথি তিনি ছিলেন ছাতার নীচে। অন্যদিকে ৩ ঘন্টারও বেশি সময় বৈশাখের প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে মৎস্যজীবীদের একটি মেশিন পাওয়ার আশায় । অনেককে রোদের তাপ থেকে রক্ষা পেতে মাথার উপরে কাগজ ধরে রাখতেও দেখা গেছে।

শুক্রবার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দফতরের আয়োজনে সরকারি অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, সকাল ৭টার পর থেকে লোকজন অন্নদা স্কুল মাঠে জড়ো হতে থাকে। পরিচয় জানতে চাইলে বলেন তারা সদর ইউনিয়নের নিবন্ধনকৃত মৎস্যজীবী। আজ তাদেরকে মৎস্য অফিস থেকে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন দিবে। পূর্বেই তাদেরকে জানানো হয়েছে সকাল ১০টায় বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে মাঠে প্রচন্ড রোদ। ৯টার আগেই সকলে উপস্থিত হয় স্কুল মাঠে । তখনও অপেক্ষা শুধু মেশিন পাওয়ার। কিন্তু তাদের সেই অপেক্ষার সময় আর শেষ হচ্ছিলো না।

অতিথিরা আসলেই শুরু হয়ে যাবে বিতরণ কার্যক্রম। আয়োজকরা এমন আশ্বাস দিয়ে মাঠে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন মৎস্যজীবীদের। অনেকেই রোদে দাঁড়িয়ে থেকে যন্ত্রণায় ছটফট করতেও দেখা গেছে। অনেকে আবার মাথায় কাগজ দিয়ে রোদ থেকে বাচার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২-৩ জন মৎসজীবী বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় এসেছি। ৮টায় মাঠে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সময়মত ছেড়ে দিলে আরো আগেই বাড়ি চলে যাইতাম। কে বা কারা বলে আসবেন, কথা বলবেন, এরপর দিবেন। রোদে আমাদের তো সারা শরীর জ্বলছে। আল্লাই ভালো জানেন অতিথি কখন আসবেন। কখন আমরা মুক্তি পাব। ঘড়ির কাটায় তখন ১২টা আর এল সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ,প্রধান অতিথি এলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১২) সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমসহ অন্যান্য সকল অতিথিরা। পরে তারা ষ্টেইজে গিয়ে বসলেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুলের সভাপতিত্বে শুরু হল আলোচনা সভা। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. মাইমুনা জাহান। গরমে সকলেই অতিষ্ঠ হয়ে পরেন। অতিথিদের মাথায় কেউ কেউ ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন । কিন্তু মৎস্যজীবীদের মাথা ছিল ৩ ঘন্টাই রোদের নিচে । ঠিক সাড়ে ১২টার দিকে আলোচনা শেষ হল। এরপর কয়েকজন মৎস্যজীবীর হাতে মেশিন তুলে দিলেন অতিথিরা।
তিন ঘন্টা প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থেকে মিলেছে সেলাই মেশিন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. মাইমুনা জাহান মুঠোফোনে বলেন, অনুষ্ঠানের সময় সূচি ছিল ১০টায়। কিন্তু মালামালসহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র আনতে অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। তাই সঠিক সময়ে শুরু করতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *