ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক থেকে মুক্তি চায় লাকসাম পৌরবাসী

মাসুদ পারভেজ রনি, লাকসামঃ বিদ্যুৎ খেকো নিষিদ্ধ
ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে লাকসাম পৌর শহর সয়লাব। রিক্সার আদলে তৈরিকৃত এসব ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক অতিরিক্তি মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় লাকসাম শহর এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে দিনের বেলা ও সন্ধ্যায় নিয়মিত যানজট লেগে থাকছে প্রতিনিয়িত, বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে ভুগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের।
আপরদিকে কয়েক বছর আগেই বিদ্যুৎ অপচয় রোধে এসব ইজিবাইক সরকার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু লাকসামে তা বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। আবার ট্রাফিক আইনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে চলছে এসব ইজিবাইক। মাত্রাতিরিক্ত বিকট শব্দে প্রতিনিয়ত শব্দদুষণ হওয়া ও বেশি গতির কারনে ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। এই সব ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক বা রিক্সা আসার পর পরিবেশ বান্ধব পা-চালিত রিকশা এখন সম্পূর্ণভাবে উঠে গেছে এ শহর থেকে। এসব রিক্সা/অটোরিকশা চালকদের নেই কোনো লাইসেন্স। ফলে ছোট্ট শিশুরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এইসব গাড়ি চালাচ্ছে অহরহ। অনভিজ্ঞ চালকের কারণে যেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা তেমনি বাড়ছে জ্যামও। লাকসাম শহরের বাইপাস, নোয়াখালী, চাঁদপুর রেলগেইট মোড়ের রিক্সা চালকদের কাছ থেকে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন রোডে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি আসা-যাওয়া করে। বেশিরভাগ ড্রইভারই জানেনা গাড়ি চালোর নিয়মনীতি। গ্রামের ড্রাইভারদের কারণে যারা অভিজ্ঞ ড্রইভার তাদেরও বদনাম হচ্ছে।
ইজিবাইক চালক জহির জানায়, লাইসেন্স লাগে কিনা জানিনা, গ্যারেজ মালিক থেকে ভাড়া এনে আমি চালাচ্ছি।
লাকসাম সরকারি হাসপাতালের সামনে এক রিক্সা যাত্রী সায়মা আক্তার জানান, লাকসাম বাইপাস থেকে হাসপাতালে আসতে প্রায় ২৫/৩০ মিনিট এর মত লাগছে। যেইখানে ৫/৮ মিনিটের ভিতর আসার কথা।
শহরের ব্যবসায়ি আনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তা ঘাটের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হওয়ার পরও অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ফুটপাতের বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, এই দুই কারনে শহরের সড়কগুলো ছোট হয়ে গেছে। এটাও যানজটের বড় একটি কারন। এ বিষয়ে কর্তৃৃৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিৎ।
এ ব্যাপারে বাইপাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত নাম না প্রকাশের শর্তে এক ট্রাফিক পুলিশ জানান, নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে পৌর শহরের প্রতিটি মোড় ঘোরানো ও ওভারটেকিং করার সময় প্রতি দিনই প্রায় ২০/২৫ টি গাড়ি দুঘর্টনায় পতিত হচ্ছে। আমরা যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছি। তারা আইন ও নিয়মনীতি কিছুই বুঝে না। এ কারণেই যানজটও লেগে থাকে সবসময়।
এই ব্যাপারে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লাকসাম উপজেলা শাখার আহবায়ক মোজাম্মেল হক আলম বলেন, ‘প্রায় ৩-৪ বছর আগেই সরকার বিদ্যুৎ অপচয় ও ট্রাফিক জ্যাম দূর করার জন্যে অটো-রিকশা, ইজিবাইক, ভটভটি, লেগুনা, নসিমন-করিমন প্রভৃতি বাহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ওইসব বাহনগুলো দিন-রাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে এসব নিষিদ্ধ বাহনের কারণে বড় ধরণের দুর্ঘটনাও ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় যাত্রী-পথচারীদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ম্লান হয়ে যেতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *