বৌ-বাজারকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার কারিগর আবুল কালাম আজাদ

লাকসাম প্রতিনিধিঃ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে পাল্টে গেছে কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরের উত্তর বাজার সংলগ্ন ‘বৌ-বাজার’ এলাকার পূর্বেকার চিত্র। একসময়ের অপরাধের আখড়া হিসেবে পরিচিত এলাকাটি এখন মসজিদ-মাদরাসার কারণে আলোকিত হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাটিতে ক্রমান্বয়ে ধার্মিক ও শিক্ষিত মানুষের হার বেড়ে চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নব্বই দশকে লাকসাম পৌর শহরের উত্তর বাজার সংলগ্ন বর্তমান ‘বৌ-বাজার’ নামক এলাকায় মুষ্টিমেয় কয়েক পরিবারের বসবাস ছিলো। সেসময় এই এলাকার উল্লেখযোগ্য প্রবীণ বাসিন্দা ছিলেন প্রয়াত হাকিম আলী। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ সমাজসেবক। পরবর্তীতে বংশানুক্রমে তার উত্তরসুরীরাও এই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। হাকীম আলীর মৃত্যুর পর তার ছেলে সেলিম মিয়া পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজ এলাকায় নেতৃত্ব দেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন চা দোকানদার। সেলিম মিয়ার চা দোকান থেকেই এই এলাকার নামকরণ হয় ‘বৌ-বাজার’। বর্তমান পেয়ারাপুর গ্রামের রিক্সাচালক জসিম মিয়া সেসময় কাজ করতেন সেলিম মিয়ার চা দোকানে। ঠাট্টাচ্ছলে উদ্ভাবিত ‘বৌ-বাজার’ নামটি তিনিই চারিদিকে ছড়িয়েছেন। বস্তুতপক্ষে ‘বৌ-বাজার’ নামকরণের নেপথ্যে ঠাট্টা ব্যতিরেকে আর কোনো কারণ নেই বলে জানান এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক যুগ ধরে অন্য এলাকা থেকে আসা মানুষরা বৌ-বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। কেউ কেউ স্থানীয়দের থেকে জায়গা কিনেও বাড়ি তৈরি করেছেন। প্রয়াত সমাজসেবক সেলিম মিয়ার মৃত্যুর পর এই এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কিছুটা বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে এই এলাকাটি বিভিন্ন অপরাধের আখড়ায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে। সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে এখানকার অনেকেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতেন। জনশ্রুতি রয়েছে, এই এলাকা একসময় মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য কুখ্যাত ছিলো। বর্তমানে এই এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মসজিদ-মাদরাসা গড়ে ওঠার ফলে এই এলাকা আলোকিত হয়েছে। ধার্মিক ও শিক্ষিত মানুষের হার বেড়েছে। মানুষের মাঝে সহনশীলতা ফিরে এসেছে। বৌ-বাজার এলাকায় সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন প্রয়াত সমাজসেবক সেলিম মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ। গত এক দশকে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই এলাকার পূর্বেকার রূপ পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছেন। ব্যক্তিগত অর্থায়নে জামে মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি জনচলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেণ নির্মাণ করেছেন। একসময়ের ধর্মবিমুখ এলাকায় এখন আবুল কালাম আজাদের নির্মিত মসজিদে প্রতি সপ্তাহের জুমার নামাজে ৩ শতাধিক মুসল্লী উপস্থিত থাকেন। তার প্রতিষ্ঠিত দারুস সুন্নাত দ্বীনিয়া মাদরাসা ও নেছারিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশুনা করেন। আবুল কালাম আজাদের এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকার সর্বস্তরের বাসিন্দারা।
সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রয়াত সমাজসেবক সেলিম মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনে বেড়ে উঠেছি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক নির্দেশ দিয়েছেন নিজেকে এবং নিজের পরিবার-প্রতিবেশীদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে হবে। এজন্যই আমি আমার নিজ এলাকাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরানো তথা আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করেছি। আমাদের এই এলাকাটি পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হলেও আমরা যথাযথ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। নাগরিক সুবিধা পেলে এই এলাকার বাসিন্দাদের জীবনমানের আরো উন্নতি হবে বলে আমি মনে করছি। আশা করছি, পৌর মেয়র ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মহোদয় আমাদের দিকে সুদৃষ্টি দেবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *