বুড়িচংয়ে সরকারি তিতির খাল দখল করে মার্কেট ও বাড়ি তৈরীর অভিযাগ

সাইফুল ইসলাম শিশির, কুমিল্লা: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সরকারি তিতির খাল দখল করে গড়ে উঠেছে মার্কেট ও ভবণ তৈরীর অভিযাগ উঠে। গত ৫/১০ বছর ধরে সরকারি তিতির খাল ভরাট করে সেখানে বাণিজ্যিক মার্কেট ও বাসভবণ নির্মাণ করেছেন। খাল দখল কওে মার্কেট ও বাসভবনের কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তিতির খালটি। এতে খালের পানি প্রবাহ ব‌্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটা সময় আমাদের সেচ ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিলোনা। সেচের জন্য তখন ব্যবহার করা হতো খাল-বিল, ডোবা, পুকুরের পানি। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সেই প্রাচীন খালগুলো। সেগুলো এখন ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বলি। ক্ষমতার বলে যে যার মতো করে দখল নিয়ে নিচ্ছে খাল-বিলের এবং সরকারি খাস জমির। কুমিল্লার বুড়িচং থানার ষোলনল ইউনিয়নের তিতির খাল তেমনই একটি লাওয়ারিশ প্রবাহের নাম। যাচ্ছেতাই অবস্থা এই খালের। উপজেলার ভরাসার, ইছাপুরা, গোবিন্দপুর, পয়াত, মহিষমারা, হয়ে বাকশিমুল গিয়ে থামে। অবৈধ দখল ও ভোগদখলের কারনে ব্যহত হচ্ছে পানি প্রবাহ ও সেচ ব্যবস্থা। এলাকার জনগণের জীবিকার যোগান দিতো খালের মাছ। সেই মাছের যোগানও দেয়না আর তিতির খাল। ফসলের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে এলাকার জনগণের জীবিকার উৎসের, ক্ষতি হচ্ছে গ্রামের পরিবেশের। নোংরা, আবর্জনার স্তুপ যেনো ঐতিহ্যবাহী এই তিতির খাল। দখলদারত্বের দরুন অস্তিত্ব হারানোর মতোই প্রায়, ঐতিহ্যবাহী সরকারি তিতির খাল। নেই জনতা বা সরকার বা সরকারি কোনও কর্মকর্তার সুদৃষ্ট। বিলুপ্তপ্রায় সরকারি তিতির খালের উপর গড়ে উঠেছে মার্কেট ও বাসভবণ ভরাসার বাজারে। মেসার্স মফিজ ট্রেডার্সের যে দালান দাঁড়িয়ে আছে ভরাসার বাজার, তার প্রায় আশি ভাগ পড়েছে তিতির খালে। রাস্তার নিচে ছিলো কালভার্ট। যা আজ সমতল রাস্তার মতোই। মেসার্স মফিজ ট্রেডার্স কালভার্টের দু’ধারে অবস্থিত রেলিং ভেঙে ফেলে। স্থানীয় জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোনদিন এই তিতির খাল বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ প্রশশÍ ছিলো। এলাকার মুরব্বিদের সাথে কথা বলার সময় ওরা স্মৃতিচারণ করে বলে কোনদি খালে একসাথে পাঁচ জাল একসাথে ফেলা হতো। কথাটা প্রথমে বুঝতে না পারলেও আলাপচারিতায় বুঝতে পারলাম তিতির খালের প্রশশÍতা সম্পর্কে। যা মেসার্স মফিজ ট্রেডার্স ছাড়াও বিভিন্ন লোক ইচ্ছামত দেয়াল তৈরি করে খালের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার ভূমিকা পালন করছে। বর্ষায় তিতির খাল’ই হচ্ছে পানি অপসারণের একমাত্র পন্থা। কিন্তু বিভিন্নভাবে এর গতিপথ ও জলপ্রাবাহ বিঘ্ন হচ্ছে। জলাবদ্ধতার তৈরি হচ্ছে ভরাসার, ছয়ঘুরিয়া, গোবিন্দপুর, সোনাইসার, ষোলনলসহ বিভিন্ন গ্রামে। প্রশাসন নির্বাক। জনতাও মুখে কিছু বলার সৎ সাহস করছে না প্রাণের ভয়ে। মেসার্স মফিজ ট্রেডার্সের দ্বিতীয় তলায় আছে সাবেক চেয়ারম্যান এর অফিস। যার ভাড়াটিয়া ও পালিত সন্ত্রাস বাহিনীর হাতে জিম্মি এলাকার জনগণ। ভয়ে মুখ খুলছেনা কেউ। মুখ খুল্লে পরে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হবে এই ভেবে। কেউ কেউ বলে গায়ের জোর আল্লাহ চিরদিন রাখে না। অতি জুলুম বরদাস্ত করে না। আল্লাহ কোনদিন এর বিচার করবে। আবার কেউ বলে প্রশাসনের কর্মকর্তা যদি কিছু না বলে আমরা কি বলবো? বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল, নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধার করার জন্য সকল ব্যবস্থা নেন।
উল্লেখ্য,যে তিতির খালের কোনও কোনও অংশ খনন করা হলেও বেশিরভাগ রয়েছে জোরপূর্বক জবরদখলের আওতায়। বিশেষ করে ভরাসার বাজারের অংশটুকু একেবারে নাজুক অবস্থায় আছে। রিতীমত আবর্জনা ও কচুরিপানার স্তুপে ঢাকা মফিজ ট্রেডার্সের পেছনের অংশ। মফিজ ট্রেডার্স তো রীতিমতো গবেষণা করে এখানে নাকি ম্যাপে রাস্তা দেখানো হয়েছে। তাহলে কথা হলো তিতির খালটি কোথায় ছিলো। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসন, জেলা পরিবেশ অধিদÍর, জেলা পুলিশ সুপার, থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি বুড়িচং থানার অফিসার ইনজার্চ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, উপজেলার সকল সাংবাদিকরা ও সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিবর্গের সুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী সাধারণ জনগন। সরকারি তিতির খালের পানি সে পুরনো দিনের মতোই প্রবাহিত হবে। যোগান দেবে সেচে জীবন জীবিকায়। জাতীয় অর্থনীতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি গৌরবময় সে খাল বেঁচে থাকবে স্ব-গর্বে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বুড়িচং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাম্মৎ সাবিনা ইয়াছমিন জানান, তিতির খাল দখল করে মার্কেট ও বাসভবনের বিষয়টি আমার নজরে পড়ে নাই। এবিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *