প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় মামার হাতে ভাগনি খুন

টি. আর. দিদার, চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: প্রেম শাশ্বত, প্রেম স্বর্গীয়। তবু আমাদের দেশে এখনো প্রেম নিগৃহীত। তাই আজও প্রেম করে অকালে স্বর্গে যেতে হয় অনেক প্রেমিক প্রেমিকাকে। তেমনি প্রেমের কারনে প্রথমে বাল্য বিয়ে ও পরে মামাদের হাতে হত্যার শিকার হয় ভাগনি ফারজানা আক্তার (১৭)।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বরকইট গ্রামের হাতগন্ডিপাড় এলাকায় মায়ের সাথে মামার বাড়িতেই থাকত পিতৃহীন ফারজানা। সে বরকইট উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত। এরই মাঝে শাকিল নামের এক ছেলের সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। তার ওই প্রেমের সর্ম্পক টের পেয়ে অল্প বয়সে তাকে বাল্য বিয়ে দেয় মামারা। যা মেনে নিতে পারেনি সে। তাই বিয়ের এক মাস গত হতে না হতেই প্রেমের টানে স্বামীর বাড়ি থেকে প্রেমিক শাকিলের হাত ধরে পালিয়ে যায় ফারজানা।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ফারজানার বড় বোন মৌসুমীসহ দুই মামা আবু হানিফ ও হাবিব উল্লাহ। খোঁজ নিয়ে বৃহস্পতিবার ৬ মে ওই প্রেমিকের কাছ থেকে ফারজানাকে নিয়ে আসে তারা। শাসনের নামে রাতে চলে তার উপর অমানবিক নির্যাতন। দুই মামার বেধরক মারধরের এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে ফারজানা। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরদিন শুক্রবার ৭ মে দুপুরে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান- ফারজানার মৃত্যুর পর তার মুখে ও শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে গ্রাম্য মাতাব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দারস্থ হন দুই মামা। গন্যমান্য ব্যক্তিদের কেউ একজন আত্মহত্যার বিষয়টি জানালে তাও ময়না তদন্ত করবে পুলিশ এমন তথ্য দিলে ফের সিদ্ধান্ত বদল করেন তারা। পরবর্তীতে মেয়েটি স্টোক করে মারা গেছে বলাবলি শুরু করে। আর সেই মোতাবেক দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে মরদেহ গোসল করানোর কাজে অংশ নেয় হাকমতের নেছা (হাসু), জেসমিনসহ আরও ২জন। তারাই নিশ্চিত করে নিহতের শরীরের একাধিক নীলা-ফুলা দাগ রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, মেয়েটি যেদিন মারা গেছে ওই রাতে তাকে অনেক মারধর করা হয়েছে বলে শুনেছি। মেয়েটির ব্যাপারে খবর নিতে গেলে ওই বাড়ির জামাল সরকার আমাকে জানিয়েছেন তারা এলাকার চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। পরে আমি চলে আসি।
বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম জানান- মেয়েটি মৃত্যুর পর স্থানীয় কয়েকজন গ্রাম্য মাতাব্বর ও বাড়ির লোকজন এসে আমাকে জানিয়েছে মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। তখন আমি থানার শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেই। কিছুক্ষণ পর শুনি মেয়েটি স্টোক করে মারা গেছে। ২-৩দিন পর শুনি আবার অন্য কথা।
এ ঘটনায় চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামসুদ্দীন ইলিয়াছ জানান- সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা ঘটনাটি শুনেছি। স্থানীয় কেউ আমাকে অবহিত করেনি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *