রূপসায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি কষ্টে দিন পার করছে

নাহিদ জামান, খুলনা প্রতিনিধিঃ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে (দক্ষিন পাড়া) রবের মোড়ে গত ২২ মে কবিরের ভাড়াটিয়া বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নয় টি পরিবারের থাকার দশ টি ঘর বিদ্যুতের সট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লেগে সম্পুন্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এলাকার লোকজন অনেক চেষ্টার করে ও আগুন নিয়ন্ত্রন করতে না পারায় নিন্ম আয়ের মাছ কম্পানিতে চাকুরি করা শ্রমিকদের বসবাসের ১০ টি ঘর সহ, ঘরে থাকা মেহনত করে তিল তিল করে গচ্ছিত টাকা, ঘরের আসবাবপত্র সহ আনুমানিক মোট এগারো লক্ষ আশি হাজারের মত টাকার ক্ষতি হয়ে যায়। এই আগুন লাগার খবর শুনে সেখানে ছুটে যান রূপসা উপজেলার চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, এবং উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাছনিম। আগুনে পোড়া ক্ষতিগ্রস্তদের কে বাগমারা দক্ষিণ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িক ভাবে থাকার ব্যাবস্থা করে তাদের মাঝে প্রত্যেক টি পরিবার কে চাউল ১০ কেজি, আলু ৫ কেজি, তৈল ১ কেজি, ডাউল ১ কেজি বিতরণ করেন। এছাড়া খুলনা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী এই দুর্ঘটনার কথা শুনে জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে ততক্ষনাত ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেন। তিনি ক্ষতি গ্রস্থদের পাশে দাড়ানোর ও দ্বায়িত্ব নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রত্যেক পরিবারের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রী পিচ বিতরনের ব্যাবস্থা গ্রহন করেন।

আজ ২৪ মে সোমবার সরোজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলিকে দক্ষিণ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না পেয়ে, যেখানে ঘর গুলি পুড়ে ছাই হয়েছে তার পাশে ছোট ছোট রান্না ঘরের মধ্যে বসবাস করতে দেখা যায়। তাদের কাছে স্কুলে বসবাস না করে এখানে বসবাস করছেন কেন। জানতে চাইলে তারা জানান উপজেলা প্রশাসন আমাদের স্কুলে থাকতে বললেও আমরা ঐখানে না থেকে এখানেই থাকছি। তার কারন ঐখানে থাকার মত উপযোগী ব্যাবস্থা নেই। তারা আরো জানান আমাদের ঘর গুলি যখন পুড়ে যায়, তখন আমাদের পরনের পোশাক ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। সরকারি ভাবে যে সামান্য সাহার্য্য পেয়েছি তাই নিয়ে কোন রকম দিন পার করছি। আমাদের এখানে আমরা ৯ টি পরিবার ১০ টি ঘরে বসবাস করতাম। সব কয়টি ঘর পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমাদের রান্না করার জন্য তিনটি রান্না ঘর ও ঘর মালিকের বাড়তি তিনটি ঘর ছিলো আমরা কষ্ট করে তিনটি ঘর ও তিনটি ছোট রান্না ঘরের ভেতর অতি কষ্ট এই গরমের ভেতর গাদাগাদি করে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। এর ভেতর রয়েছে ছোট শিশু বাচ্ছা, প্রতিবন্ধি বাচ্ছা। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস ছালাম মুর্শেদী আমাদের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরাদের কষ্টের দিকে চেয়ে যদি আমাদের কে সরকারি জায়গায় ঘর দিয়ে আমাদের থাকার ব্যাবস্থা করেন, তাহলে আমাদের আর কোন বস্তিতে ঘর ভাড়া দিয়ে থাকতে হবে না। ঘর ভাড়া না দিয়ে, ঘর ভাড়ার টাকা দিয়ে কোন মতে বেঁচে থাকতে পারবো। আমরা খাওয়ার জন্য সামান্য খাবার পেয়েছি তা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আমাদের সাময়িক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আরো খাদ্য প্রয়োজন। সামনের দিন গুলি কোন রকম খেয়ে বেঁচে খাকার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শন করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলির সাথে কথা বলার সময় উপস্থিত ছিলেন, নৈহাটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উপ প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান,
নৈহাটি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মামুন শেখ সহ এলাকার গন্যমান্য বেক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *