সরাইলের কালিকচ্ছে চুলাই মদ উদ্ধার। গ্রেপ্তার ৩

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল কালিকচ্ছের ঋষি বাড়ির চুলাই মদ উৎপাদনের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এস আই বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে সরাইল থানা পুলিশের একটি দল এই অভিযান চালায়।

সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে এই অভিযান। অভিযানকালে মাটির নীচ থেকে মদ তৈরীর সরঞ্জাম ও কন্টিনসহ ৯০ লিটার মদ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় কস্তরি রবি দাস (৫০), তার স্ত্রী অঞ্জনা রবি দাস (৩৫) ও মেয়ে চম্পা রবি দাসকে (১৮)গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই সটকে পরে আরো ৪-৫টি পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু মুখ গোমড়া হয়ে গেছে উৎপাদন কাজের সাথে গোপনে জড়িত বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ ৬০ বছরেরও অধিক সময় ধরে কালিকচ্ছের এই বাড়িতে চুলাই মদ উৎপাদন ও বাজারজাত করণের বিষয়টি অনেকটা ওপেন সিক্রেট। এখানকার মদ স্থানীয় এক শ্রেণির লোকদের মনোরঞ্জনে ব্যবহার হয়ে আসছ।
বাণিজ্যিক উদ্যেশ্যে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদকমুক্ত নয় যুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। একটি গ্রুপ সংখ্যালঘু দের ঝড় তুলে ফায়দা লুটার গভীর ষড়যন্ত্র করেছে একাধিকবার। বিষয়টি মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় চিৎকার করে বলে আসছিলেন সরাইল প্রেসক্লাবের প্রতিনিধিরা।

অবশেষে কালিকচ্ছের দায়িত্বে থাকা এস আই বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে সোমবার পুলিশ প্রথমে পুরো ঋষি বাড়িটি চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে । পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই ৪-৫টি পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে। আড়াই ঘন্টা অভিযান চালিয়ে মাটির নীচ থেকে ৪০ লিটার মদসহ ১টি ড্রাম, ১ লিটার করে পলিথিনের ১০টি প্যাক, প্রতিমা মূর্তির বরাবর মাটি খুড়ে নীচে মিলে ২০ লিটার ওজনের মদ ভর্তি ২টি কন্টিনার, ২টি বড় ডেসকি উদ্ধার করে পুলিশ।
মাদক প্রতিরোধে পুলিশের এমন অভিযানে ওই এলাকার অধিকাংশ পরিবার স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছেন। মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ি বলেন, বর্তমান ইউপি সদস্য সুমন মিয়া এখানের মদের কারখানাকে পুঁজি করে ব্যবসা করছেন। মদপান অবস্থায় ওই বাড়ি থেকে পুলিশ দিয়ে যুবকদের আটক করায়। আবার সে-ই মধ্যস্থতা করে মোটা অংকের টাকায় ছাড়িয়ে আনে। একজন জনপ্রতিনিধি কিভাবে পুলিশের সোর্স হয় বুঝি না।

সরাইল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। ওই বাড়িতে মাদক উৎপাদন ও বিক্রয় কোনটাই হবে না। মদ উৎপাদনের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *