টি শার্টে লিখা ছিল ‘ঋতুর সাথে হোক সন্ধি’

ডেস্ক রিপোর্টঃ নারী দেহের সন্তান ধারণের এক অবিচ্ছেদ্য লক্ষণ হলো মেন্সট্রেশন বা বাংলায় যাকে বলা হয় ঋতুস্রাব। কেউ কেউ পিরিয়ড বা মাসিকও বলে থাকে। তবে পৃথিবীর যে যেই ভাষায় যাই বলুক না কেন, সাবালিকা হওয়ার পর প্রতিটি নারীকেই মেন্সট্রেশন সাইকেলের মধ্য দিয়ে যেতে হয় প্রতিমাসে। তার ওপর ভিত্তি করেই গেল ২৮ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে ঋতুস্রাব স্বাস্থ্যবিধি দিবস বা মেন্সট্রুয়াল হাইজিন ডে।

২০১৪ সালে জার্মানিভিত্তিক এনজিও ওয়াশ ইউনাইটেড কর্তৃক বিশ্বব্যাপী নারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে শুরু হয় এই দিবসের। ২৮ দিনে মেন্সট্রুয়াল সাইকেল গড়ে ওঠে, তাই ২৮ তারিখকেই এই দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

২০২০ সালে এসেও তথাকথিত ট্যাবু এই বিষয়ে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে খোলামেলা আলোচনা করা এক প্রকার নিষিদ্ধ, অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। এমনকি এ বিষয়ে নারী-পুরুষ কাউকেই যথাযথ শিক্ষা দেওয়া হয় না। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা প্রায়শই ঋতুবর্তীকালীন নানা সমস্যা ও দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভোগেন।

তবে সময় বদলেছে, একে একে সমাজের শিক্ষিত সচেতন ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে এই ট্যাবু ভাঙা সম্ভব এমনটাই প্রমাণ করেছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

‘মেন্সট্রুয়াল হাইজিন ডে’ উপলক্ষে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা একটি পোস্টে ঋতুস্রাব বিষয়ে নানা অসেচতনতার কথা তুলে ধরেন শাওন। সাথে নিজের দুই পুত্র নিষাদ ও নিনিতকেও এ বিষয়ে শেখানোর অনুভূতি ব্যক্ত করেন হূমায়ুনপত্নী।

দুই পুত্রের সঙ্গে একই ম্যাচিং টি শার্টে হাস্যজ্জলভাবে ছবিতে পোজ দিতে দেখা যায় তাকে। যে টি শার্টে লিখা ছিল ‘ঋতুর সাথে হোক সন্ধি’।

যদি কোনো মা তার ছেলে সন্তানটি বেড়ে ওঠার সময় তাকে মেয়েদের ঋতুচক্রের কথা জানায়। সেই সন্তানটিও বড় হয়ে তার বোন, মেয়ে সহপাঠী এবং ভবিষ্যত নারী সহকর্মীদের প্রতি সংবেদনশীল হবে। এমনটাই আশা করেন শাওন।

তিনি আরও বলেন, ‘হ্যা, মাসে ৫ দিন আমাদের রক্তপাত হয়, যার জন্য আমরা মারা যাই না, সন্তান ধারণ করতে নারীরা মা, পুরুষেরা বাবা হতে পারে। সুতরাং অবশ্যই আমরা অপবিত্র, অযোগ্য, কিংবা অনির্ভর যোগ্য নই।’

শাওনের মতো পৃথিবীর প্রত্যেকটি মা সচেতন হয়ে এগিয়ে এলে, ঋতুস্রাবের ওপর থেকে এই অদৃশ্য ট্যাবু একদিন ভেঙে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *