কুমিল্লায় মাদক বাণিজ্যে মাধ্যমেই আলোচিত সোর্স মিঠু এবং রাজুর অপকর্ম নিয়ন্ত্রণহীন

সাইফুল ইসলাম শিশির, কুমিল্লা: ভারত সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই আসছে কুমিল্লা সদর উপজেলার আমড়াতুলি ইউনিয়ন ও বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের দিয়ে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, মদ, বিয়ার, হুইস্কিসহ ভারত থেকে ধেয়ে আসে। পরবর্তীতে এসব মাদক যেমন বিভিন্ন স্থানে পাঁচার হয়,তেমনি স্থানীয়ভাবেও বিক্রি হচ্ছে। এতে বেশ কিছুস্থানে মাদক সেবনে প্রতিদিনই ভীড় করছে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও।এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।ভারত সীমান্তবর্তী জেলার প্রধান নদী গোমতি দ্বারা অবস্থিত কুমিল্লা কোতোয়ালি থানাধীন ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চলছে রমরমা মাদকের বাণিজ্য। আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা টহলের মাধ্যমে এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামান্য মাদক আটক করতে পারলেও স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এই এলাকা থেকে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার মাদক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার আলোচিত সোর্স মিঠু এবং রাজুর মাধ্যমেই মাদক বাণিজ্য থেকে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ মফিজুর রহমান। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মহলে রয়েছে চরম ক্ষোভ। ভারত থেকে চোরাই পথে আসা বিপুল পরিমাণ মাদক বিক্রি হয় এই এলাকার আনাচে-কানাচে। সীমান্তের বড়জ্বালা, গোলাবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, বিষ্ণপুর, জামবাড়ী কবিরাবাজার থেকে শিমপুর হয়ে বিভিন্নরোড় মাদক পাচারকারবারির ভরাসারবাজার হলো মূলাকেন্দ্র।এখান থেকে বিবিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার ফেনসিডিল, ভারতের তৈরি ইয়াবা, গাঁজা, আফিমসহ নানা ধরনের মাদক আসছে দেদারছে। সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক দেশে এনেই বড় বড় সিন্ডিকেটগুলো প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিকআপ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং বাইসাইকেলযোগে এসব মাদক কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- এই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মফিজুর রহমানের সঙ্গে রয়েছে সোর্স আমড়াতলী এলাকার মিঠু এবং মাদক মামলায় চাকরিচ্যুত পুলিশের কনস্টেবল রাজু।এদুজনসহ আরও বেশ কয়েকজন মিলেই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইনচার্জ মফিজুর রহমানকে সুবিধা আদায় করে দেন। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থও লগ্নি করেন সোর্স মিঠু ও রাজু। তাদের দুজনকে প্রায়ই ইনচার্জের সঙ্গে পুলিশের গাড়িতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানান, ছত্রখিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে দেদারছে মাদক পাচার করছেন এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইলাশপুরের ইজাজুল হাসান, ছাওয়ালপুর এলাকার নাছির এবং পারভেজ, জামবাড়ী এলাকার মৃত ময়নাল মিয়ার ছেলে ফারুক এবং কামরুল, গোলাবাড়ী এলাকার লিটনসহ অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে ইজাজুলকে এলাকার লোকজন ইয়াবার ডিলার হিসেবেই চেনে। বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাবু, ডিস হারুন, নোওয়াফ, সিএনজি ড্রাইবার ইকবাল,গাঁজার ডিলার সাইফুল ইসলাম, ভরাসর এলাকার কবির হোসেন (পিচ্চি কবির), সাইফুল ইসলাম ছন্দু, ফয়সাল হাসেন বাবু, ছয়ঘুড়িয়া গ্রামের লিটন, তানজির, সোহাগ, গোবিন্দপুর গ্রামের জয়নাল মেম্বার, আরিফ, আলম, ষোলনল গ্রামের ইকবাল হোসেন, সোলমান, নানুয়ারবাজার এলাকার রাসেল, লিটন, মিঠু, হোসেন, ইছাপূড়ার এলাকার দুলাল হোসেন, মহিমাড়া এলাকার আমির হোসেন, পূর্বহুড়া এলাকার ইয়াবার ডিলার হিসেবেই চেনে দুলাল হোসেন,হারুন , মামুন,শামিমসহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা এতটাই বেপরোয়া এবং প্রভাবশালী যে তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।এদিকে পুলিশের অপরাধ, জনহয়রানি এবং মাদক নির্মূলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ ব্যাপক চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও ছত্রখিল ফাঁড়ি পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকায় এলাকায় পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।সোর্স মিঠু এবং রাজুই এসআই মফিজের সব অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করেন। এসআই মফিজ বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে ছোট ছোট ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীদের গ্রেফতার করে চালান করে দেন, তিনি একজন দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসার।এব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করে ছত্রখিল ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মফিজুর রহমান বলেন, আমি মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার বলেই মাদক ব্যবসায়ীদের একটা গ্রæপ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
এবিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি বখতিয়ার আহম্মেদ বলেন, ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়িটি আমার থানার আওতাধীন, আমি কোতোয়ালি মডেল থানায় সদ্য যোগদান করেছি। ওই ফাঁড়ির ইনচার্জসহ কোনো পুলিশ সদস্য যদি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে কিংবা মাদক পাচারের সময় আটক না করে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *