আইন অমান্য করে মৎস্য চাষের সময় বেঁধে মাইকিং হওয়ার পরেও ব্যবস্থা নেই নি স্থানীয় প্রশাসন

মো কাবিরুল ইসলাম, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর মহানন্দা এবং পূর্নভবা নদীতের পানিতে মাছ চাষ করার জন্য অবৈধভাবে ঘেরে (কুমাড়) বানিয়েছে এতে দূষিত হচ্ছে মহানন্দার এবং পূর্নভবার নদির পানি।
নদীতে জেলেদের ঘেরাও করা(কুমাড়ে) মাছের জন্য বিষ জাতীয় খাবার দিয়ে এতে নষ্ট করা হচ্ছে পানি। এমনই অবস্থা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালুপুর-দুর্গাপুর অঞ্চলের মহানন্দা নদীতে।

এই কারনে মহানন্দা নদী বিলীন হতে বসেছে এই অবৈধ জেলেদের জন্য। কিছু অবৈধ জেলেদের কবলে মহানন্দা নদীর তীর নদীর গহব্বরে চলে গেছে। তাদের তৎপরতা গোমস্তাপুর-চৌডালা ইউনিয়নেও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানিতে শত শত ঘেরাও করা(কুমাড়) রয়েছে। আর নদীর পাড়, নদীর স্রোতের কারণে মাটি কেটে চলে গেছে। যার ফলে স্থানীয়রা এ ঘেড়াও কারা (কুমাড়) করায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনকে হাতে করে তারা এ কাজটি করে যাচ্ছে। এতে করে কারো কথা তারা শুনছে না।

কালুপুর নিবাসী আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার মহানন্দা নদী স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। দীর্ঘ দিন ধরে নদীতে মাছ ধরার ঘেড়াও করা (কুমাড়) ফেলে রাখলে নদীর পাড়ের জমি নদীর স্রোতের কারণে তীরে চলে যাচ্ছে। আমাদের জমিজমা নদীতে তলিয়ে গেছে। কুমাড়ে আটক মাছকে বিষাক্ত জাতীয় খাবার (ব্রয়লার বিষ্ঠা) দিচ্ছে।ফলে দূষণ হচ্ছে পানি। যার ফলে এলাকার মানুষ পানি ব্যবহার করতে পারছে না। আমরা এর প্রতিকার চাই।

আরো একজন নদীর পাড়ে বসবাসরত বৃদ্ধ বলেন, নদীর পাড়ে আমি বসবাস করি। স্থানীয়দের ক্ষমতাবলে দীর্ঘ ২৪ বছর থেকে এই ঘেরগুলো (কুমাড়) রেখে নদীর পাড়, নদীর স্রোতের ফলে নদীর গহব্বরে চলে গেছে। আমার বাড়িটার জমি কেটে কেটে স্রোতে নিয়ে চলে যায়। নদীর পানি ব্যবহার করতে পারি না। এমন কি নদীতে পানিতর গোসলও পর্যন্ত করতে পারছি না।
এই ব্যাপারে (কুমাড়) মালিকের সাথে কথা বললে| কুমাড় মালিক
সুজাউদ্দিন বলেন, আমরা মৎস্য অধিদপ্তর এর কার্ডধারী জেলে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ঘেড়াও করা(কুমাড়ে) ফেলে মাছ ব্যবসা করছি। আমার ঘেড়াও করা (কুমাড়ের) কারণে অন্য মানুষের কোন ক্ষয় ক্ষতি হয় না।

এদিকে,ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য গোলাম মূর্তজা বলেন, ঘেড়াও করা (কুমাড়) উঠানোর বিষয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি,কিন্তু বিষয়টি তিনারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, কিছু স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরে উপজেলা মৎস্য অফিস ঘেড়াও করা (কুমাড়) উঠানোর জন্য সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে মাইকিং প্রচার করার এক মাস পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোন ঘেড়াও করা( কুমার) উঠেনি। তাই আমরা দ্রুত এই ঘেড়াও করা (কুমাড়) গুলো ওঠার দাবি জানাচ্ছি।

অপরদিকে গোমস্তাপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা (অতি: দায়িত্ব:) ড. মো. আবু বক্কর ছিদ্দিকের সাথে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *