ত্রিশ বছরেও পূনঃস্হাপন হয়নি আমতলীর দেওয়ানী আদালত

সাইফুল্লাহ নাসির, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ ত্রিশ বছরেও বরগুনার আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে আমতলী-তালতলী উপজেলার মামলা সংশ্লিষ্ট লক্ষাধীক মানুষ।দীর্ঘ চার কিলোমিটার পায়রা (বুড়িশ্বর) নদী পাড়ি দিয়ে মামলা- মোকোদ্দমার জন্য যেতে হয় জেলা শহরে অবস্থিত সহকারী জজ আদালতে।২০১২ সালে বরগুনা জেলা জজ আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও নয় বছরেও তা আলোরমুখ দেখেনি।ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে আদালত পুনঃস্থাপন কার্যক্রম। দ্রত আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়,১৯৮২ সালে আমতলী-তালতলী নিয়ে আমতলী উপজেলা গঠিত হয়। উপজেলা ঘোষনা হওয়ার পর থেকেই আমতলীতে দেওয়ানী আদালত স্থাপিত হয়। শুরু থেকেই ভালো ভাবে চলে আসছিল আমতলীর আদালত। ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে কারন ছাড়াই আমতলী আদালত প্রত্যাহার করে বরগুনা জেলা শহরের সাথে সংযুক্ত করে তৎকালীন সরকার।ফলে সুবিধা বঞ্চিত হয় দুই উপজেলার লক্ষাধীক বিচারপ্রার্থী। দেওয়ানী ও ফৌজদারি আদালত বরগুনায় সংযুক্ত হওয়ায় এক বছরের মাথায় ১৯৯২ সালে পায়রা নদী ও রাখাইন অধ্যুসিত এলাকা বিবেচনা করে ফৌজদারী আদালত পুনরায় আমতলীতে শুরু হয়। কিন্তু ৩০ বছরেও দেওয়ানী আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়নি।বন্যা-জ্বলোচ্ছাস উপেক্ষা করে চার কিলোমিটার দীর্ঘ পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে দুই উপজেলার মানুষের বরগুনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করতে যেতে হয়। এতে মামলা সংশ্লিষ্ট প্রত্যান্তঞ্চলের হাজার হাজার বিচার প্রার্থীরা চরমভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।জেলা সদরে দেওয়ানী আদালত থাকায় দু’উপজেলার জণস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে দাবী করেন আমতলী-তালতলীর সচেতন নাগরিক সমাজ। দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের দাবীতে ইতিমধ্যে আমতলী উপজেলা আইনজীবি সমিতি আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। বর্তমানে বরগুনা দেওয়ানী আদালতে আমতলী-তালতলীর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মামলা চলমান রয়েছে। বিগত ২০১২ সালে তৎকালিন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম আমতলী আদালত পরিদর্শনে আসেন। তিনি আদালত পরিদর্শন শেষে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দিয়ে বরগুনা জেলা জজের কাছে প্রতিবেদন চান। তৎকালিন জেলা জজ আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ কাদের মিয়ার। কিন্তু প্রতিবেদন দাখিলের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি।ফলে স্থবির হয়ে পরে আদালত পুনঃস্থাপনের কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পূনঃস্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *