মাদারীপুরে মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রমের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন

মাহামুদুল হাসান, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: মাদারীপুরে মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রমের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন।

মাদারীপুর প্রকল্পের ৫ম পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের ২০২০ শিক্ষা বর্ষের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়েছে।

৫জুন শনিবার বেলা ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়৷ অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি পুরস্কার বিতরন করা হয়। এ সময় জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা হলেন,শেফালী রানী দাশ, চৈতালি বাড়ৈ,শুশিলা দত্ত, রমা মল্লিক, পিংকিরানী মন্ডল।

শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা হলেন, সূর্য সরকার,অরূনা দাশ,কনিয়া ভক্ত,স্বপ্ন মন্ডল, অম্বেষা মন্ডল, রিমি বিশ্বাস,প্রাপ্তি সরকার,মেঘা সরকার,জুই মল্লিক, রাজ মন্ডল, শ্রুতি পাল,শ্রুতি বিশ্বাস,উৎসব বৈদ্য,মনিষা বৈদ্য,দুর্গা কীর্তনীয়া,বাধন করাতী,তনয় বিশ্বাস,তারিন বৈরাগী অবদান বিশ্বাস। উক্ত

অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এম.পি।বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন,খায়রুল আলম সুমন(অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক) মোঃ সাইফুদ্দীন গিয়াস( উপজেলা নির্বাহী অফিসার সদর,মাদারীপুর),নাসির উদ্দীন আহমেদ (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাদারীপুর),প্রানতোষ মন্ডলস (সভাপতি পূজা উৎযাপন পরিষদ মাদারীপুর।)আরো অন্য সংগঠন,ও বিচারক প্যানেলে শহিদুল ইসলাম মুন্সি (জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা),এপিডি মঃশিঃগঃশিঃ শরিয়তপুর মোঃ মনিরুল ইসলাম (জেলা সমন্বয়কারী), একটি বাড়ী একটি খামার, স্কাউট জেলা প্রতিনিধি সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এম.পি বলেন,বাংলাদেশ কোন ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়নি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম। স্বাধীনতার সেই সুফল ভোগ করছে মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাস্তব প্রতিফলন মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম।
জেলা প্রশাসক ডাক্তার রহিমা খাতুন বলেন এ প্রকল্পের আওতায় সমগ্র বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সনাতন জনগোষ্ঠীর মাঝে যেভাবে শিক্ষা ধর্ম ও নৈতিকতা’ আলো ছড়িয়ে আছে তা সত্যিই বাংলাদেশ সরকারের একটি বিস্ময়কর ও যুগান্তকারী ইতিহাস।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক খায়রুল আলম সুমন বলেন, প্রকল্পটি যেভাবে তাদের শিক্ষা ধর্ম ও নৈতিকতা বাণী প্রচার করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, আমি যতবারই বিভিন্ন কেন্দ্রে পরিদর্শন করেছি ততোবারই শিশুদের কর্মকাণ্ড দেখে বিস্মিত হয়েছি আমি মনে করি সরকারের এ প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা দরকার এবং প্রকল্পটির স্থায়ী রূপ দেওয়া দরকার।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক কেন্দ্রে শতভাগ শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে অধ্যায়ন করেছে আমি প্রত্যেকবার পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এত অল্প বয়সের শিশুদের শুদ্ধ উচ্চারণের গীতা পাঠ, কবিতা আবৃতি, ছড়া গান, গল্প বলা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে উন্নত বাংলাদেশ প্রকল্প টি অন্তত প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি আশা করি।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট,ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মুয়িত উদ্দীন মোল্লা বলেন,এই মহামারী করোনা ভিতর আমাদের এই শিক্ষা বন্ধ হয়নি বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও প্রকল্পের শিক্ষা কার্যক্রম থেমে থাকেনি। পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থী ঝরে পড়েনি। প্রত্যেক কেন্দ্র শিক্ষক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদেরকে সাপ্তাহিক সমবেত প্রার্থনা, নিয়মিত হোম ভিজিট এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার সত্যিই এ প্রকল্পের একটি বিরাট অর্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *