আমতলীতে খাল দখল করে বসতবাড়ি

সাইফুল্লাহ নাসির, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিঃ বরগুনার আমতলী উপজেলার তালুকদার বাজার এলাকায় চাওড়া খাল অবৈধভাবে দখল করে দুই পাড়ে কমপক্ষে দেড় শতাধিক পাকা-আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে খালটি সংকুচিত হয়ে আসছে। পাশাপাশি এসব অবৈধ স্থাপনায় বসবাসকারী পরিবারগুলো ময়লা-আবর্জনা ও মলমূত্র ফেলে খালের পানি দূষিত করছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার চাওড়া খালটি আমতলী পৌরসভা, সদর, চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত৷একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কৃষিজ পণ্য পরিবহন, গৃহস্থালি কাজ ও চাষাবাদ সরাসরি এই খালের ওপর নির্ভরশীল। ১৯৯০ সালে এই খালের তালুকদার বাজার এলাকায় সেতু নির্মাণের পর এলাকাটি ঘিরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এই সুযোগে খালের দুই পাড় দখলের হিড়িক পড়ে যায়। আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাতারাতি খাল দখল করে সেখানে পাকা-আধাপাকা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ঘর তোলার জন্য খালের মাঝ বরাবর বাঁশ ও কাঠের খুঁটি পুঁতে সেখানে মাটি ও ইটের টুকরো ফেলে খাল ভরাট করেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খাল দখল করে প্রায় দেড় শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই সব স্থাপনায় বসবাসকারীরা খালে ময়লা-আবর্জনা এবং খোলা পায়খানার মাধ্যমে মলমূত্র ফেলছে। তাছাড়া দুই পাড় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ কারায় প্রবহমান খালের গতিপথ প্রায় বন্ধের পথে। স্রোত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পলি পড়ে খালের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ও কচুরীপানায় ভরে গেছে। এভাবে দখল-প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে অচিরেই নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, তালুকদার বাজারটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ধান ও কৃষিপণ্যের বাজার। ওই এলাকায় কৃষকের উৎপাদিত ধান, তরমুজ, বাদাম ও আলুসহ অন্যান্য পণ্য এ খাল দিয়ে বাজারে আনা নেওয়া করেন। এ ছাড়া খালের দুই পাড়ে আমতলী পৌরসভা, সদর, হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার একর ফসলী জমির চাষাবাদ ও সেচ নির্ভর করে। এলাকার প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা এই খালের পানি গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করেন।
আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, খাল দখল করে যাঁরা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, সরেজমিন তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *