প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভারতে পাচারকালে স্কুলছাত্রী উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্টঃ করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী (১৬)। ছয় মাস আগে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম হয়। পরে তারা বিয়ে করে। তবে কিছুদিন পরই সে প্রতারণার অভিযোগ তুলে। এরপর স্বামীকে ছেড়ে চলে আসে।

এরপর গত এক মাস আগে আবারও ফেসবুকে যশোরের এম ডি শিহাব খান নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ছাত্রীর। সে পরিচয় গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। এরপর রোববার (৬ জুন) ওই ছাত্রীকে বিয়ে করবে বলে জানায় শিহাব খান। এ জন্য তাকে যশোরে যেতে বলে। গতকাল সোমবার (৭ জুন) ওই ছাত্রী একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করে রাত নয়টার দিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যশোর পৌঁছায়।

পরে, শিহাব তাকে মনিহার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যান। কিন্তু ওই ছাত্রী হোটেলে থাকতে না চাইলে তাকে শহরের একটি বস্তিতে এক নারীর কাছে রাখে। এসময় তার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে নেয় ওই যুবক।

মঙ্গলবার (৮ জুন) সকালে ওই কিশোরীকে নিয়ে চাঁচড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন ওই যুবক। ওই বাসস্ট্যান্ড থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বাস ছেড়ে যায়।

সম্প্রতি ভারতে নারী পাচারের ঘটনা আলোচানায় আসলে প্রশাসন, নারী ও শিশু পাচার রোধে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সীমান্ত এলাকায় যাতায়াতের রুট ও চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি বাড়ায়। সকাল নয়টার দিকে ওই কিশোরীকে নিয়ে সীমান্তের দিকের বাসের খোঁজ করতে থাকেন শিহাব। বিষয়টি নজরে আসে অপারেশন জেনারেশনের মাঠ কর্মকর্তা সুনিতা সরকারের। তিনি তখন ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন তাকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। ততক্ষণে ওই যুবক সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে, কিশোরীকে উদ্ধার করে যশোর মহিলা অধিদপ্তর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। যশোর মহিলা অধিদপ্তর থেকে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জেলা প্রশাসন থেকে বিকেলে ওই কিশোরীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।

সুনিতা সরকার বলেন, মেয়েটির ভাগ্য ভালো আমাদের নজরে পড়েছিল। তা না হলে ভারতে পাচার করা হতো। সে যশোরে আশ্রয়ে আছে। ওই মেয়েকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কিশোরীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ওর মা বিদেশে থাকে। দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, ছোট মেয়ে আমার সাথেই বাড়িতে থাকে। কিন্তু সোমবার দুপুরের পর থেকে মেয়েকে পাইনি। ফোন করলে ফোন বন্ধ পাই। তার স্বামীকে ফোন দিলে জানায় সেখানেও যায়নি। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। আজ ডিসি অফিসের মাধ্যমে জানতে পারি মেয়ে যশোরে উদ্ধার হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *