শরনখোলায় আলতাফ মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান বিক্রি করার অভিযোগ

সাব্বির হোসেন, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সপ্নের নীড় প্রধানমন্ত্রীর আস্ত্রয়ন প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারনা করে লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সরকারি অনুদানের বিভিন্ন কার্ড বন্টনে নানা অনিয়ম, স্বোচ্ছাচারিতা সহ ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। একের পর এক তার এ সকল অনিয়মের প্রতিবাদে ক্রমেই ফুঁসে উঠছেন গ্রামের নিরীহ মানুষ। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন ২০১৬ সাল থেকে দায়িত্ব গ্রহনের পর নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ঘর দেওয়ার আশ্বাসে এ যাবদ প্রায় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়েছেন। পরে সব হজম করতে না পেরে ফেরত দিয়েছেন অনেকের টাকা।

ধানসাগর এলাকার সংখ্যালঘু সত্তোর্ধো ডিজেবর ওঝা বলেন, আমি ভূমিহীন ও গৃহহীন, মানুষের বাড়ি কাজ করে কোন মতে সংসার চালাই। প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘরের জন্য আলতাব মেম্বরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৬ হাজার টাকা নিন। ২ বছর পার হলেও এ পর্যন্ত টাকা-ঘর কিছুই দিচ্ছেন না। একই এলাকার মহিব্বুল হাওলাদারের কাছ থেকে ৫ হাজার, ওলি হাওলাদারের কাছ থেকে ৫ হাজার, শাহিন শেখের কাছ থেকে ২২ হাজার, মিজান খাঁনের কাছ থেকে ১৫ হাজার, জয়নাল মাতুব্বরের কাছ থেকে ৩৭ হাজার, মোস্তফা হাওলাদারের কাছ থেকে ১০ হাজার, পলাশের কাছ থেকে ১০ হাজার, বিধবা নারী তারা বানুর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রতারনা করে নানা কৌশলে টাকা নিয়েছেন।

অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে ঘুষ বানিজ্য করেছেন ওই মেম্বার এমনটিই জানালেন কহিনুর বেগম। তিনি বলেন, আলতাফ মেম্বারের কাছে ভিজিডি কার্ডের জন্য গেলে তিনি বলেন টাকা লাগবে ৮ হাজার। পরে নিরুপায় হয়ে ধার করে ৭ হাজার টাকা দেই ওই মেম্বরকে। এভাবে তিনি আবু তৈয়ব সরদারের কাছ থেকে ভিজিডির জন্য ১৪ হাজার, নাসিমার কাছ থেকে ৬ হাজার, বিলকিসের কাছ থেকে ৬ হাজার, ধীরেন বাবুর কাছ থেকে ৪ হাজার, মানসুরার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাদেরকে কার্ড দিয়েছেন ওই মেম্বার। তিনি ভিজিডি, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধি, পানির ট্যাংক, রেশন, মাতৃত্ব কার্ড সহ হত-দরিদ্রের কাজেও করেছেন ব্যাপক অর্থ বানিজ্য। রেশন কার্ড দেওয়ার জন্য হেলেনা, রনজিত ও কমলার কাছ থেকে জন প্রতি ১ হাজার, ট্যাঙ্কি দেওয়ার জন্য বাচ্চু তালুকদারের কাছ থেকে ২ হাজার, বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার জন্য রমেশ সরকারের কাছ থেকে ৫ হাজার, শুশীল ওঝার কাছ থেকে ৩ হাজার, অনীল হাওলাদারের কাছ থেকে ৩ হাজার, হত-দরিদ্রের কাজের জন্য ইসমাইল খন্দকারের কাছ থেকে ১ হাজার ও বিধবা ভাতার জন্য মিনতির কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ভূক্তোভোগীরা আরো জানান, তার এ সকল কার্যকলাপের কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি সহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। এমনকি সরকারি সাহায্য সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত করা হয় তাদের। এদিকে প্রাকৃতিক নানা দূর্যোগকালীন অবস্থায় সরকারি অর্থ অনুদান, ত্রান তৎপরতা, এলাকার দারিদ্র বিমোচনে উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডকে ঘিরে ভাগ্য বদলেছে ওই মেম্বারের। এ ব্যাপারে কথা হলে ওই এলাকার বাসিন্দা, তরুন সমাজ সেবক, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আব্দুর রহিম হোসাইন রাজু জানান, গত ৫ বছরে সরকারের কোন সাহায্য এলাকার কোন সুবিধাভোগী ঘুষ না দিয়ে নিতে পারেন নায়। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে ওই ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্য ও বানোয়াট।

সংশ্লিষ্ট ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম টিপু জানান, ওই মেম্বরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের খবর তিনিও শুনেছেন। দৃ

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তার পরেও খোঁজ খবর নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *