ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ: আমাদের করণীয়

‘ইসলাম’ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত চির শান্তির ধর্ম, যাতে সকল মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ইসলামের সুমহান ছায়াতলে যারাই প্রবেশ করবে, তাঁরা মহান রবের অপার নেয়ামতে ধন্য হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। কুরআনুল কারীমের ভাষায়:“তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো। তোমরা ছিলে পরস্পর শক্র এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তারঁ অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে” (সূরা আল-ইমরান:১০৩)। একজন মু’মিন অপর মুমিনের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং স্বভাবতই পারস্পরিক সম্প্রীতি-ভালবাসা,সহানুভূতি ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবে, তা সে যে স্থানের, দেশের বা যে ভাষারই হোক না কেন। কেননা ইসলাম ধর্ম গোত্র, বর্ণ, ভাষা, কাল ও স্থানের সাথে আবদ্ধ নয়।
ক. ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পরিচয়:
ইসলাম বিশ্ববাসীর মধ্যে সর্বাত্মক শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার ধর্ম, যা মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহানুভূতির ধারা চালু করতে চায়। মানুষের জীবন সুন্দর, সুখময় ও নিরাপদ করে তুলতে চায়। আর এ চাওয়া সামগ্রিকভাবে সফল ও সার্থক হয়ে ওঠে ইসলামের ‘উখুওয়াত’ বা ভ্রাতৃত্ব নীতির যথার্থ বাস্তবায়নের ওপর। হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) কে আদি পিতা-মাতা বিবেচনায় বিশ্বের সকল দেশ, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, গোত্র ও কালের মানুষ এ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। কুরআনুল কারীমের ভাষায়: “হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক আত্মা হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা হতে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দু’জন হতে বহু নর-নারী সৃষ্টি করেন..”(সূরা নিসা: ১)।
উখুওয়াত আরবি শব্দ, এটি আখুন শব্দের বহুবচন। অর্থ ভাই, সাথী বা বন্ধু। ব্যবহারিক অর্থ ভ্রাতৃত্ব, ভ্রাতৃত্ববন্ধন, ভ্রাতৃত্ববোধ ইত্যাদি। মিসবাহুল লুগাত শীর্ষক গ্রন্থে বলা হয়েছে, “পরস্পরের মধ্যে হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার সম্পর্ককেই উখুওয়াত বা ভ্রাতৃত্ব বলে”। ইসলামী ভ্রাতৃত্ব এক ও অভিন্ন আদর্শ, মতবাদ বা ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন ও অনুশীলনের কারণে বিশ্বাসী অনুসারীদের মাঝে এ ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে। তাই ইসলামী ভ্রাতৃত্ব একটি আদর্শিক ভ্রাতৃত্ব। ইসলামী ভ্রাতৃত্ব মহান রব প্রদত্ত একটি সুদৃঢ় ও শাশ্বত শর’য়ী বন্ধন, যা সকল স্থান, কাল, ভাষা, গোত্র ও বর্ণের সকল মু’মিনকে অন্তর্ভূক্ত করে। আল্লাহ তা’আলা বলেন: “যারা ওদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ও ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং মু’মিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখবেন না ”(সূরা হাশর: ১০)।
খ.ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব:
ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। আর এ ভ্রাতৃত্বের মানদন্ড ঈমান। মহান রাব্বুল আলামীনের ভাষায়: “মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা তোমাদের ভাইদের মাঝে মীমাংসা করে দাও আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও”(সূরা হুজুরাত:১০)। কুরআনুল কারীমের অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে: “মু’মিন নর ও মু’মিন নারী একে অপরের বন্ধু”(সূরা তাওবা: ৭১)। রাসূল -সাল্লালাাহু আলাইহি ওযাাসাল্লাম- ইরশাদ করেন: “সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির ক্ষেত্রে ম’ুমিনদের দৃষ্টান্ত এক‌ই দেহের ন্যায়, যার একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে পুরো শরীর জ্বর ও অনিদ্রায় আক্রান্ত হয়”(সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)। রাসূল -সাল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- অন্যত্র বলেন: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:“একজন মু’মিন অপর মু’মিনের জন্য আয়না স্বরূপ, মুমিন পরস্পর ভাই ভাই। সে তার জমি সংরক্ষণ করে এবং তার অনুপস্থিতিতে তা হেফাযত করে”(জামে’উত তিরমিজি)। মু’মিনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে আল্লাহ তা’আলা বলেন: “তারা যেন সুদৃঢ় প্রাচীরের মত”(সূরা সাফ্ফ: ৪)। তাই মু’মিনদের মধ্যকার পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সকলের জন্য জরুরী।
গ. পারস্পরিক সহযোগিতা:
একজন মুসলিম অপর মুসমি ভাইয়ের জন্য সর্বদা কল্যাণকামী ও সহযোগিতার মানসিকতা সম্পন্ন হবে। আর এ সম্প্রীতি ও সহযোগিতার সীমারেখা তাকওয়া এবং কল্যাণের পথে, ন্যায় ও বৈধ কাজে। কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হচ্ছে: “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়াার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করবে এবং পাপ ও সীমালংঘনে সহযোগিতা করবে না”(সূরা মায়েদা:০২)। ন্যায় ও কল্যাণের বিষয়ে নিজ কওমকে সাহায্য করা অন্যায় সম্প্রদায়প্রীতি নয়; বরং ঈমানের দাবী। আর জুলুম ও অন্যায় কাজে নিজ ক‌ওমের অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করাই নিষিদ্ধ সাম্প্রদায়িকতা। রাসূল-সাল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘আসাবিয়াত’ তথা সাম্প্রদায়িকতা কী? তিনি উত্তরে বলেন, আসাবিয়াত হল নিজ সম্প্রদায়কে তার অন্যায়-অবিচারে সাহায্য করা (সুনানে আবু দাউদ)। তাই অন্যায়ের ক্ষেত্রে অন্ধ পক্ষপাতই সাম্প্রদায়িকতা, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিসের ভাষায়: “যে ব্যক্তি আসাবিয়াতের দিকে ডাকে বা আসাবিয়াতের কারণে যুদ্ধ করে বা আসাবিয়াতের ওপর মৃত্যুবরণ করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়”(সুনানে আবু দাউদ)। অতএব ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হল, তাকওয়া ও কল্যাণের কাজে এবং ন্যায় ও ইনসাফের পথে মুসলমানগণ পরস্পরকে সমর্থন ও সহযোগিতা করবে। নিজেদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখবে, তবে যেকোনো অন্যায়ের পক্ষাবলম্বন ও সহযোগিতা হতে নিজকে বিরত রাখবে। রাসূল (সা.) এর বাণী: হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:“তোমার ভাইকে অত্যাচারী ও অত্যাচারীত অবস্থায় সাহায্য কর। তখন জনৈক সাহাবী (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূল (সা.) তাকে অত্যাচারীত অবস্থায় আমি সাহায্য করব; কিন্তু অত্যাচারী হলে কিভাবে সাহায্য করব? জবাবে রাসূল (সা.) বলেন, তুমি তাকে অত্যাচার করা হতে বিরত রাখবে। আর এটাই তাকে সাহায্য করা” (সহীহুল বুখারী)।
ঘ. অপরকে অগ্রাধিকার দেয়া:
ন্যায় ও কল্যাণের কাজে একজন মু’মিন অপর মু’মিন ভাইয়ের জন্য স্বীয় স্বার্থ বিসর্জনেও উৎসাহিত করে। ইসলামের সূচনালগ্নে মক্কার মুসলিমগণ যখন কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন,আপন গোত্রের অবিচার ও নিপীড়নে নিজেদের জন্মস্থান ত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। তখন মদীনার মুসলমানগণ সহযোগিতা ও সহানুভূতির এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যার দ্বিতীয় নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা নিজেদের প্রয়োাজন ও দারিদ্র্য থাকা সত্ত্বেও সহায়-সম্বল এবং আপনজন বিহীন মুহাজির মুসলিমগণের জন্য ধন সম্পদ ও আপন স্বার্থ ত্যাগের সমুজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের এ গুণ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন: ٌ“আর তারা (আনসার) তাদেরকে (মুহাজির) নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও” (সূরা হাশর:০ ৯)। আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের বিশেষ কিছু নি’আমত উল্লেখপূর্বক এসকল নে’আমতের অধিকারীগণের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন: “খাবারের প্রতি আসক্তি (প্রয়োজন) থাকা সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম, ও বন্ধীদের খাবার দান করে” (সূরা দাহর: ৮-৯)।
ঙ. আমাদের করণীয়:
ইসলামী ভ্রাতৃত্বের গন্ডি কোন স্থান, কাল, ভাষা, গোত্র বা বর্ণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গোটা বিশ্বের সকল স্থানের মুসলমানগণই পরস্পর ভাই ভাই। আর তাই একজন মু’মিন হিসেবে অপর মু’মিন ভাইয়ের জন্য নিজ দেশে যেমনি কর্তব্য রয়েছে,তেমনি দেশ,জাতি, ভাষা, গোত্র ও বর্ণের সীমানার বাহিরেও কিছু করণীয় রয়েছে। নিম্নে মুসলিমগণের পারস্পরিক কিছু করণীয় উল্লেখ করা হলো-
১. আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে একজন মু’মিন অপর মু’মিনকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসা;
২. পারস্পরিক সাক্ষাত/কথোপকথোনের শুরুতে সালামের আদান-প্রদান নিশ্চিত করা;
আল্লাহ তা’আলা বলেন: “তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও উহা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে বা উহারই অনুরূপ করবে”(সূরা নিসা:৮৬)। রাসূল (সা.) বলেন: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত. তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:“তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ঈমান আনয়ন করবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান আনয়ন করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কী তোমাদেরকে এমন বিষয়ে বলে দেবনা যা সম্পাদন করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? আর তাহলো তোমরা নিজেদের মাঝে সালাম বিনিময় কর” (সহীহ মুসলিম)।
৩. পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, কুধারণা ও গীবত হতে বিরত থাকা;
কুরআনুল কারীমের ভাষায়: “হে মু’মিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে বেঁচে থাক; কেননা অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ। এবং তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং অপরের পশ্চাতে গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কী তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তা ঘৃণা কর”(সূরা হুজুরাত: ১২)।
৪. পারস্পরিক গালি-গালাজ ও ঝগড়া-বিবাদ হতে বিরত থাকা;
হাদীসের ভাষায়: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন: মুসলিমদের পারস্পরিক গালি দেয়া ফাসেকী এবং হত্যা করা কুফুরী”(সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।
৫. প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পরস্পরকে সমর্থন জানানো, পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থানুযায়ী সাহায্য ও সহযোগিতা করা; আল্লাহ তা’আলার ভাষায়: “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়াার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করবে”(সূরা মায়েদা: ০২)।
৬. ছোট-খাটো মতানৈক্যের কারণে পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি না করা;
৭.অতীত ও বর্তমান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক ঐক্য সুসংহত করা;
৮. ঐক্য সম্পাদনে স্বীয় পদ-পদবীর মোহ ত্যাগ করে অন্যকে প্রাধান্য দেয়ার মানসিকতা পোষণ করা;
৯.নেতা/দায়িত্বশীল নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নিষ্ঠা, আমানতদারীতা, আল্লাহভীরুতা, সাহসিকতা, দেশপ্রেম, প্রত্যুৎপন্নিমতাসহ অন্যান্য ইতিবাচক গুণাবলীকে আমলে নেয়া;
১০. অপর মু’মিনের দু:খ-কষ্ট লাঘবে চেষ্টা করা ও ব্যথায় ব্যথিত হওয়া;
রাসূল (সা.) বলেন: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:“যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন মু’মিনের কষ্ট দূর করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কষ্ট দূর করবেন..”(সহীহ মুসলিম)।
১১.নিজের জন্য যা পছন্দ অপর মু’মিনের জন্যও তা পছন্দ করা;
রাসূল (সা.) এর বাণী: হযরত আনাস (রা.) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:“তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার অপর ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ না করে”(সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।
১২. সকল কাজ, পদক্ষেপ ও ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টিকেই লক্ষ্য নির্ধারন করা;
কুরআনুল কারীমের ভাষায়: (হে নবী) “বলুন! আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর উদ্দেশ্যে”(সূরা আন’আম: ১৬২)।
১৩. পরস্পরের জন্য দু’আ করা;
১৪. পারস্পরিক হাদিয়া বিনিময় করা;
রাসূল (সা.) বলেন: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:“তোমরা পরস্পর হাদিয়া বিনিময় করবে এতে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা (সুসম্পর্ক) তৈরী হবে”(সহীহুল বুখারী)।
১৫. জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য চেষ্টা করা;
১৬. মুসলিম দেশের নাগরিক হিসেবে নিজ দেশকে অভ্যন্তরিন ও বহিঃশক্র হতে নিরাপদ রাখতে ভূমিকা পালন করা;
১৭. মুসলমানদের বিপদাপদ, প্রয়োজন ও ন্যায্য অধিাকার আদায়ের ক্ষেত্রে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা;
১৮. মুসলমানদের প্রাচিন ঐতিহ্যে নিজেদেরকে উজ্জীবিত করা;
১৯. যে কোনো পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহ তা’আলার ওপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল করা; কুরআনুল কারীমের ভাষায়: “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট”(সূরা তালাক: ৩)।
২০. আল্লাহ তা’আলার রহমত ও সাহায্যের প্রত্যাশী হয়ে দৃঢ়কদমে এগিয়ে চলা।
আল্লাহ তা’আলা বলেন:“আর এই যে, মানুষ তা-ই পায় যা সে চেষ্টা করে”(সূরা নাজম:৩৯)।

পরিশেষে বলব, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব অপরিসীম। মু’মিনগণ পরস্পর একই প্রাচীরের মত। রাসূল (সা.) বলেন:“মু’মিনগণ যেন একটি প্রাচীর, যার একটি ইট আরেকটিকে শক্তি যোগায়”(সহীহুল বুখারী)। আর এ ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীসের একাধিক জায়গায় জোর তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু মুসলিম মিল্লাতের একটি অংশ পারস্পরিক মতানৈক্য, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার, স্বার্থপরতা, গীবত ও ঘৃণ্য কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত থাকায় নিজেদের মধ্যকার স্বাভাবিক শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য ব্যহত হচ্ছে, যা অনাকাক্সিক্ষত। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে তাঁর অপার নেয়ামত ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জাতিতে পরিণত হওয়ার তাওফিক দান করুন।

লেখক:
হোসাইন মোহাম্মদ ইলিয়াস
কামিল, বিএ (অনার্স), কিং সউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ, এমএ, এমফিল, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়। উপাধ্যক্ষ, নিবরাস মাদরাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *