ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নিজের জমি বিক্রি করে হামলার শিকার পরিবারের মানববন্ধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: নিজের জমি বিক্রি করে হামলার শিকার হচ্ছি। আমার জমি আমি বিক্রি করবো স্থানীয় মাস্তানদের চাঁদা দিতে হবে কেন? জমি আমার খেলার মাঠ দাবি করে নানা রকম ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে চাঁদাবাজরা৷ আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই। মানবন্ধনে কথা গুলো বলছিলেন জমির মালিকানা দাবি করা নুরুল হুদা।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে শহর চৌরাস্তায় ভুক্তভোগী জমির মালিকগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন চলে ঘন্টাব্যপী। পরে স্মারকলিপি দেয়া হয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে।

মানববন্ধনে দাড়িয়ে জমির মালিকপক্ষের ওয়ারিশ জুলফিকার আলী ভট্টু বলেন, আমি অসুস্থ। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। খাদ্যনালীতে ঘাঁ ও দুটি ভাল্প নষ্ট হওয়ায় ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। চিকিৎসার টাকা যোগার করতে বায়নামা সূত্রে জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ সেটিকে খেলার মাঠ দাবি করে আসছে। দখল নিতে দিচ্ছেনা। জমিটি যে ব্যক্তি মালিকানার এতে কোন ভুল নেই। আমি কোন খেলার মাঠ বিক্রি করিনি। আমি আজ আমার পরিবার নিয়ে এখানে দাড়িয়েছি আমাদের সুষ্ঠু সমাধান দিন।

জমির মালিকানা দাবি করা আরেক ওয়ারিশ নুরুল হুদা বলেন, গড়েয়াতে যে জমিটি খেলার মাঠ দাবি করা হচ্ছে সেটি আসলে আমাদের মালিকানা সম্পত্তি। সরকারের কোন নথিতে সেটি খেলার মাঠ উল্লেখ করা নাই। সেখানে আমাদের রোপন করা গাছ বড় হচ্ছে৷ কিন্তু অযথায় স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারী চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় আমাদের সমস্যা করছে। আমরা জমি বিক্রি করেছি। দখলে গেলে আমাদের সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করছে। আমার জমি আমরা বিক্রি করতে পারবোনা এটা তো হতে পারেনা। যদি সেটা খেলার মাঠই হবে তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করুক। সরকার প্রমাণ করুক যে সেটি খেলার মাঠ। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন করছি। আমাদের সম্পত্তি বিক্রির অধিকার আমাদের আছে।

বায়নামা সূত্রে জমি ক্রেতা সজল চৌধুরী বলেন, গড়েয়াতে ১১ টি খেলার মাঠ আছে৷ কিন্তু আমি যে জমি কিনেছি সেটা কোন খেলার মাঠ নয় ব্যক্তিমালিকানা জমি। আমি জমি ক্রয়ের পর সেখানে সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে গেলে আমার কাছে ৪০ লাখ টাকা দাবি করা হয়৷ আমি টাকা না দেয়ায় আমার উপর হামলা চালানো হয়, আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করে। আমরা মামলাও করেছি। চাঁদাবাজদের একটি পক্ষ জমিটিকে খেলার মাঠ দাবি করছে। কিন্তু কাগজে কলমে কোথাও সেটি খেলার মাঠ উল্লেখ নেই। এ নিয়ে অনেকবার বসাও হয়েছে। তাদের চাঁদা দেইনা বলে তারা বারবার আমাদের সমস্যা করছে। আমরা বিচার চাই।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইউএনও আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান বলেন, গড়েয়ার সেই কথিত খেলার মাঠ ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি পক্ষ আমার কাছে এসেছিল। এটি নিয়ে মামলা চলায় শুনানি করা হয়নি। সেটি খেলার মাঠ সরকারি রেকর্ডে এমন কোন তথ্য আছে কিনা জবাবে ইউএনও বলেন, গড়েয়ার সেই জমিটি সরকারি রেকর্ডে খেলার মাঠ উল্লেখ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিজের জমি বিক্রি করে হামলার শিকার পরিবারের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: নিজের জমি বিক্রি করে হামলার শিকার হচ্ছি। আমার জমি আমি বিক্রি করবো স্থানীয় মাস্তানদের চাঁদা দিতে হবে কেন? জমি আমার খেলার মাঠ দাবি করে নানা রকম ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে চাঁদাবাজরা৷ আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই। মানবন্ধনে কথা গুলো বলছিলেন জমির মালিকানা দাবি করা নুরুল হুদা।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে শহর চৌরাস্তায় ভুক্তভোগী জমির মালিকগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন চলে ঘন্টাব্যপী। পরে স্মারকলিপি দেয়া হয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে।

মানববন্ধনে দাড়িয়ে জমির মালিকপক্ষের ওয়ারিশ জুলফিকার আলী ভট্টু বলেন, আমি অসুস্থ। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। খাদ্যনালীতে ঘাঁ ও দুটি ভাল্প নষ্ট হওয়ায় ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। চিকিৎসার টাকা যোগার করতে বায়নামা সূত্রে জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ সেটিকে খেলার মাঠ দাবি করে আসছে। দখল নিতে দিচ্ছেনা। জমিটি যে ব্যক্তি মালিকানার এতে কোন ভুল নেই। আমি কোন খেলার মাঠ বিক্রি করিনি। আমি আজ আমার পরিবার নিয়ে এখানে দাড়িয়েছি আমাদের সুষ্ঠু সমাধান দিন।

জমির মালিকানা দাবি করা আরেক ওয়ারিশ নুরুল হুদা বলেন, গড়েয়াতে যে জমিটি খেলার মাঠ দাবি করা হচ্ছে সেটি আসলে আমাদের মালিকানা সম্পত্তি। সরকারের কোন নথিতে সেটি খেলার মাঠ উল্লেখ করা নাই। সেখানে আমাদের রোপন করা গাছ বড় হচ্ছে৷ কিন্তু অযথায় স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারী চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় আমাদের সমস্যা করছে। আমরা জমি বিক্রি করেছি। দখলে গেলে আমাদের সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করছে। আমার জমি আমরা বিক্রি করতে পারবোনা এটা তো হতে পারেনা। যদি সেটা খেলার মাঠই হবে তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করুক। সরকার প্রমাণ করুক যে সেটি খেলার মাঠ। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন করছি। আমাদের সম্পত্তি বিক্রির অধিকার আমাদের আছে।

বায়নামা সূত্রে জমি ক্রেতা সজল চৌধুরী বলেন, গড়েয়াতে ১১ টি খেলার মাঠ আছে৷ কিন্তু আমি যে জমি কিনেছি সেটা কোন খেলার মাঠ নয় ব্যক্তিমালিকানা জমি। আমি জমি ক্রয়ের পর সেখানে সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে গেলে আমার কাছে ৪০ লাখ টাকা দাবি করা হয়৷ আমি টাকা না দেয়ায় আমার উপর হামলা চালানো হয়, আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করে। আমরা মামলাও করেছি। চাঁদাবাজদের একটি পক্ষ জমিটিকে খেলার মাঠ দাবি করছে। কিন্তু কাগজে কলমে কোথাও সেটি খেলার মাঠ উল্লেখ নেই। এ নিয়ে অনেকবার বসাও হয়েছে। তাদের চাঁদা দেইনা বলে তারা বারবার আমাদের সমস্যা করছে। আমরা বিচার চাই।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইউএনও আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান বলেন, গড়েয়ার সেই কথিত খেলার মাঠ ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি পক্ষ আমার কাছে এসেছিল। এটি নিয়ে মামলা চলায় শুনানি করা হয়নি। সেটি খেলার মাঠ সরকারি রেকর্ডে এমন কোন তথ্য আছে কিনা জবাবে ইউএনও বলেন, গড়েয়ার সেই জমিটি সরকারি রেকর্ডে খেলার মাঠ উল্লেখ নেই।