নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র আহ্সানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। সামনে বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেই স্টেশনের পুরো প্লাটফর্ম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছাউনির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্র দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকলে থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আফজাল উদ্দিন জানান, বহু বছর আগে নির্মিত স্টেশনের ছাউনির টিনে মরিচা পড়ে ক্ষয়ে গেছে। নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে, যা যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। জাহিদুর রহমান বলেন, প্লাটফর্মের সিমেন্টের ঢালাই ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ট্রেনে ওঠানামার সময় যাত্রীরা প্রায়ই হোঁচট খাচ্ছেন।
তমিজ উদ্দিনের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে বা ভেজা মেঝেতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঢাকা গামী সকল ইন্টারসিটি ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে।
নিয়মিত যাত্রী রতন মোল্লা বলেন, “১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করছি, কিন্তু অবস্থার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।” ব্যবসায়ী আতিক রহমান জানান, বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থাকলেও এমন অবহেলা আর কোথাও দেখেননি। আতাউল গনি বলেন, একদিন বৃষ্টির সময় প্লাটফর্মে পানি জমে স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যাত্রীরা ভিজে অপেক্ষা করেন। ছাউনির অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসী দ্রুত প্লাটফর্ম সংস্কার, টেকসই নতুন ছাউনি নির্মাণ, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং সকল ইন্টারসিটি ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
স্টেশন মাস্টার সুব্রত কুমার দাস জানান: সমস্যাগুলো একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আবেদন ও বার্তা পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, আত্রাই ছাড়াও নন্দীগ্রাম, কালিগঞ্জ, বাঘমারা ও ভবানীগঞ্জসহ আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকা থেকে যাত্রীরা এই স্টেশন ব্যবহার করেন।

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র আহ্সানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। সামনে বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেই স্টেশনের পুরো প্লাটফর্ম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছাউনির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্র দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকলে থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আফজাল উদ্দিন জানান, বহু বছর আগে নির্মিত স্টেশনের ছাউনির টিনে মরিচা পড়ে ক্ষয়ে গেছে। নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে, যা যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। জাহিদুর রহমান বলেন, প্লাটফর্মের সিমেন্টের ঢালাই ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ট্রেনে ওঠানামার সময় যাত্রীরা প্রায়ই হোঁচট খাচ্ছেন।
তমিজ উদ্দিনের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে বা ভেজা মেঝেতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঢাকা গামী সকল ইন্টারসিটি ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে।
নিয়মিত যাত্রী রতন মোল্লা বলেন, “১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করছি, কিন্তু অবস্থার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।” ব্যবসায়ী আতিক রহমান জানান, বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থাকলেও এমন অবহেলা আর কোথাও দেখেননি। আতাউল গনি বলেন, একদিন বৃষ্টির সময় প্লাটফর্মে পানি জমে স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যাত্রীরা ভিজে অপেক্ষা করেন। ছাউনির অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসী দ্রুত প্লাটফর্ম সংস্কার, টেকসই নতুন ছাউনি নির্মাণ, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং সকল ইন্টারসিটি ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
স্টেশন মাস্টার সুব্রত কুমার দাস জানান: সমস্যাগুলো একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আবেদন ও বার্তা পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, আত্রাই ছাড়াও নন্দীগ্রাম, কালিগঞ্জ, বাঘমারা ও ভবানীগঞ্জসহ আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকা থেকে যাত্রীরা এই স্টেশন ব্যবহার করেন।

আপনার মতামত লিখুন