নীলফামারীর সৈয়দপুরের অগ্রণী ব্যাংকের শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে ৪৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য। দুই বছর ধরে সহকর্মীদের আইডি-পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজের ও কয়েকটি ভুয়া ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারি থেকে অফিসে অনুপস্থিত এ ব্যাংক কর্মকর্তা। তার সহকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে গেলে পরিবার ও স্বজনরা জানায় তমালকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করছেন। অপরদিকে এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। বিষয়টি পুলিশ থেকে রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। পরে মামলা করার অনুমতি চেয়ে ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করেছে রংপুর অফিস।
তবে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তার কয়েকজন সহকর্মী ও স্বজনরা জানায়, বাবা, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।
অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ কোটি টাকা সরানো হয়েছে রংপুর বাস টার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো শাখার একটি হিসাব থেকে। এই জালিয়াতিতে ব্যাংক কর্মকর্তা তমালকে সহযোগিতা করেছেন সৈয়দপুর শাখার সাবেক ম্যানেজার আবদুল লতিফ। এ অভিযোগের বিনিময়ে তিনি ৪৫ লাখ টাকা নিয়েছেন।
এই অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করে লাভবান হয়েছেন ডজনখানেক ব্যাংক কর্মকর্তা। যাদের তথ্য ওই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যে কয়েকটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে তিনি টাকা সরিয়েছেন, তার মধ্যে নিলুফার আক্তার ও রোদেলা আক্তারের নামে খোলা সুপার সেভিংস হিসাব উল্লেখযোগ্য। নিলুফার আক্তারের হিসাবে আরটিজিএসের মাধ্যমে ৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং রোদেলা আক্তারের হিসাবে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। তার বড় ছেলের নামে খোলা ‘তৌহিদ ডেইরি খামার’-এর চলতি হিসাবে অর্ধ কোটি টাকা সরানো হয়।
তমালের সহযোগী ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল লতিফের শ্যালক মেহেদী হাসানের প্রতিষ্ঠান ‘মন্নুজান ট্রেডার্স’-এর হিসাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। এছাড়াও নিজের সুপার সেভিংস হিসাবে ১০ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছেন। বেশিরভাগ হিসাবগুলোতে যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে হিসাবগুলো খোলা হয়েছে। তার সঙ্গে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যের কোনো মিল নেই। হিসাবগুলোর বিপরীতে ওয়েবসাইটে ছবি, স্বাক্ষর ও হিসাব খোলার আবেদনপত্রের কোনো কপিও পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর শাখার বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মশিউর রহমানের বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই, তিনি কিছুই জানেন না। এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন।
শাখাটির সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায় চাপান ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আইটি বিভাগের ওপর। তার দাবি, অতিরিক্ত আরটিজিএস লেনদেন হলেও আইটি দল তাকে এ বিষয়ে সহায়তা বা অবহিত করেনি।
টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ব্যাংকের রংপুর অঞ্চলের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান রিনো বলেন, এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং আইটি বিভাগের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। কেউ দায় এড়াতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরের অগ্রণী ব্যাংকের শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে ৪৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য। দুই বছর ধরে সহকর্মীদের আইডি-পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজের ও কয়েকটি ভুয়া ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারি থেকে অফিসে অনুপস্থিত এ ব্যাংক কর্মকর্তা। তার সহকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে গেলে পরিবার ও স্বজনরা জানায় তমালকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করছেন। অপরদিকে এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। বিষয়টি পুলিশ থেকে রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। পরে মামলা করার অনুমতি চেয়ে ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করেছে রংপুর অফিস।
তবে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তার কয়েকজন সহকর্মী ও স্বজনরা জানায়, বাবা, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।
অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ কোটি টাকা সরানো হয়েছে রংপুর বাস টার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো শাখার একটি হিসাব থেকে। এই জালিয়াতিতে ব্যাংক কর্মকর্তা তমালকে সহযোগিতা করেছেন সৈয়দপুর শাখার সাবেক ম্যানেজার আবদুল লতিফ। এ অভিযোগের বিনিময়ে তিনি ৪৫ লাখ টাকা নিয়েছেন।
এই অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করে লাভবান হয়েছেন ডজনখানেক ব্যাংক কর্মকর্তা। যাদের তথ্য ওই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যে কয়েকটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে তিনি টাকা সরিয়েছেন, তার মধ্যে নিলুফার আক্তার ও রোদেলা আক্তারের নামে খোলা সুপার সেভিংস হিসাব উল্লেখযোগ্য। নিলুফার আক্তারের হিসাবে আরটিজিএসের মাধ্যমে ৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং রোদেলা আক্তারের হিসাবে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। তার বড় ছেলের নামে খোলা ‘তৌহিদ ডেইরি খামার’-এর চলতি হিসাবে অর্ধ কোটি টাকা সরানো হয়।
তমালের সহযোগী ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল লতিফের শ্যালক মেহেদী হাসানের প্রতিষ্ঠান ‘মন্নুজান ট্রেডার্স’-এর হিসাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। এছাড়াও নিজের সুপার সেভিংস হিসাবে ১০ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছেন। বেশিরভাগ হিসাবগুলোতে যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে হিসাবগুলো খোলা হয়েছে। তার সঙ্গে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যের কোনো মিল নেই। হিসাবগুলোর বিপরীতে ওয়েবসাইটে ছবি, স্বাক্ষর ও হিসাব খোলার আবেদনপত্রের কোনো কপিও পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর শাখার বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মশিউর রহমানের বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই, তিনি কিছুই জানেন না। এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন।
শাখাটির সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায় চাপান ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আইটি বিভাগের ওপর। তার দাবি, অতিরিক্ত আরটিজিএস লেনদেন হলেও আইটি দল তাকে এ বিষয়ে সহায়তা বা অবহিত করেনি।
টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ব্যাংকের রংপুর অঞ্চলের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান রিনো বলেন, এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং আইটি বিভাগের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। কেউ দায় এড়াতে পারবেন না।

আপনার মতামত লিখুন