উত্তরাঞ্চলের ব্যস্ত রেলপথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস। বগুড়ার সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি গ্রামের কাছে দুপুরে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় ট্রেনটির অন্তত ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত না হলেও ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সান্তাহার জংশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনটির কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক বগি ছিটকে পড়ে আশপাশের জমিতে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। কিছু বগি রেললাইনের ওপর কাত হয়ে ঝুলে থাকে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের ভেতরে শুরু হয় যাত্রীদের চিৎকার-আর্তনাদ। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের বাগবাড়ি গ্রামসহ স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বগির দরজা-জানালা ভেঙে আহতদের বের করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে দ্রুত আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহতদের নওগাঁ সদর হাসপাতাল, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। হঠাৎ বিপুলসংখ্যক আহত রোগী আসায় হাসপাতালগুলোতে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। করিডোর থেকে মেঝে—সবখানেই চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। স্বজনদের আহাজারি ও উৎকণ্ঠায় হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার বিলম্বিত হওয়ায় অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে রেলওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেন। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্টেশনে হাজারো যাত্রী আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেললাইনের ত্রুটি নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়ে এলাকা এখন শোক ও উৎকণ্ঠায় আচ্ছন্ন।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের ব্যস্ত রেলপথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস। বগুড়ার সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি গ্রামের কাছে দুপুরে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় ট্রেনটির অন্তত ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত না হলেও ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সান্তাহার জংশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনটির কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক বগি ছিটকে পড়ে আশপাশের জমিতে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। কিছু বগি রেললাইনের ওপর কাত হয়ে ঝুলে থাকে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের ভেতরে শুরু হয় যাত্রীদের চিৎকার-আর্তনাদ। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের বাগবাড়ি গ্রামসহ স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বগির দরজা-জানালা ভেঙে আহতদের বের করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে দ্রুত আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহতদের নওগাঁ সদর হাসপাতাল, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। হঠাৎ বিপুলসংখ্যক আহত রোগী আসায় হাসপাতালগুলোতে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। করিডোর থেকে মেঝে—সবখানেই চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। স্বজনদের আহাজারি ও উৎকণ্ঠায় হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার বিলম্বিত হওয়ায় অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে রেলওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেন। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্টেশনে হাজারো যাত্রী আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেললাইনের ত্রুটি নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়ে এলাকা এখন শোক ও উৎকণ্ঠায় আচ্ছন্ন।

আপনার মতামত লিখুন