ঢাকা   মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

পাথরঘাটায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বিতর্কিত কমিটি নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ



পাথরঘাটায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বিতর্কিত কমিটি নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ

পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা কমিটিতে ৫১ সদস্য থাকার কথা থাকলেও নতুন কমিটি করা হয়েছে ৬১ সদস্য নিয়ে। বিষয়টি নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

 অভিযোগ উঠেছে, কমিটি গঠনে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। গঠনতন্ত্রে সভাপতি প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে এবং সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও এবার সে নিয়ম মানা হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা। 


তাদের মতে, অতীতে সব সময় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা হলেও এবার সাধারণ শিক্ষকদের মতামত ছাড়াই কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক সিনিয়র প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে দুইজন জুনিয়র সহকারী শিক্ষককে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণ করা হয়েছে। নতুন কমিটির সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান কমিটির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান নাদিরা ও শওকত হাচানুর রহমান রিমনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের এই নতুন অবস্থান সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। 


অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সমিতির পদ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু সহকারী শিক্ষক নিয়মিত স্কুল ফাঁকি দেন। এমনকি তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় অনধিকার চর্চা ও উপস্থিতি বজায় রাখেন বলে শিক্ষকরা দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক পেশা। আমাদের প্রতিনিধি কে হবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার সাধারণ শিক্ষকদের। কারো ব্যক্তিগত সুপারিশে যখন ‘পকেট কমিটি’ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা পুরো শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে।‌ তারা আরো বলেন, ‘‘যে কমিটি শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা সাধারণ শিক্ষকদের সুখ-দুঃখ বা ন্যায্য দাবির চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তার করতেই বেশি ব্যস্ত থাকে। আমরা চাই পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিতে স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন, যার মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।’’


শিক্ষানুরাগীদের মতে, ‘‘শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি এবং অসন্তোষ বিরাজ করলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ও একাডেমিক পরিবেশে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। অগঠনতান্ত্রিক কমিটির প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষকের স্কুল ফাঁকি দেওয়া বা দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপের ফলে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যদি দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করে স্বচ্ছতার সাথে নেতৃত্ব নির্বাচন করা না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষকদের সাথে শিক্ষা প্রশাসনের দূরত্ব আরও বাড়বে।’’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বলেন, ‘‘পাথরঘাটা উপজেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যে মতভেদ ও অসন্তষের বিষয়টি সামনে এসেছে, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। সমিতির গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সকল শিক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় শিক্ষকরা লিখিত ভাবে আমাদের জানালে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


পাথরঘাটায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বিতর্কিত কমিটি নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা কমিটিতে ৫১ সদস্য থাকার কথা থাকলেও নতুন কমিটি করা হয়েছে ৬১ সদস্য নিয়ে। বিষয়টি নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।


 অভিযোগ উঠেছে, কমিটি গঠনে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। গঠনতন্ত্রে সভাপতি প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে এবং সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও এবার সে নিয়ম মানা হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা। 


তাদের মতে, অতীতে সব সময় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা হলেও এবার সাধারণ শিক্ষকদের মতামত ছাড়াই কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক সিনিয়র প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে দুইজন জুনিয়র সহকারী শিক্ষককে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণ করা হয়েছে। নতুন কমিটির সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান কমিটির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান নাদিরা ও শওকত হাচানুর রহমান রিমনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের এই নতুন অবস্থান সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। 


অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সমিতির পদ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু সহকারী শিক্ষক নিয়মিত স্কুল ফাঁকি দেন। এমনকি তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় অনধিকার চর্চা ও উপস্থিতি বজায় রাখেন বলে শিক্ষকরা দাবি করেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক পেশা। আমাদের প্রতিনিধি কে হবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার সাধারণ শিক্ষকদের। কারো ব্যক্তিগত সুপারিশে যখন ‘পকেট কমিটি’ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা পুরো শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে।‌ তারা আরো বলেন, ‘‘যে কমিটি শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা সাধারণ শিক্ষকদের সুখ-দুঃখ বা ন্যায্য দাবির চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তার করতেই বেশি ব্যস্ত থাকে। আমরা চাই পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিতে স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন, যার মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।’’


শিক্ষানুরাগীদের মতে, ‘‘শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি এবং অসন্তোষ বিরাজ করলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ও একাডেমিক পরিবেশে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। অগঠনতান্ত্রিক কমিটির প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষকের স্কুল ফাঁকি দেওয়া বা দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপের ফলে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যদি দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করে স্বচ্ছতার সাথে নেতৃত্ব নির্বাচন করা না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষকদের সাথে শিক্ষা প্রশাসনের দূরত্ব আরও বাড়বে।’’


এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বলেন, ‘‘পাথরঘাটা উপজেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যে মতভেদ ও অসন্তষের বিষয়টি সামনে এসেছে, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। সমিতির গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সকল শিক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় শিক্ষকরা লিখিত ভাবে আমাদের জানালে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত