ঢাকা   রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

বরুড়ায় ১৭৯ গ্রামে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়



বরুড়ায় ১৭৯ গ্রামে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা—৩৩৩টি গ্রাম, ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ১৯৫৪ সালে থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজকের এই উপজেলা। কৃষি, প্রবাসী আয় ও মৎস্য উৎপাদনে এগিয়ে থাকা বরুড়া সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এগোলেও, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি চোখে পড়ে।

উপজেলায় বর্তমানে ১৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে—১৭৯টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক গ্রামের শিশুরা এখনও নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এতে করে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ঝরে পড়ার হার বাড়ে এবং শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


বিশেষ করে বরুড়া পৌরসভার ভেতরে পুরানকাদবা, কালিন্লজিপাড়া লতিফপুর এবং কামেড্ডা, পাঁচপুকুরিয়া, হবিরগাঁও, সোনারগাঁও ও বেলভুজ—এমন ছয়টি পাশাপাশি গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে এই এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। একইভাবে উপজেলার বড় ও জনবহুল গ্রাম—মস্কিপুর, জীবনপুর, কাঞ্চনপুর, কালামুড়ি, চিতড্ডা, বড় ভাতুয়া, নোয়াদ্দা কানাইল ও মধ্যলক্ষীপুর—এগুলোর অনেকগুলোতেই নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


লক্ষীপুর ইউনিয়নের বদরপুর, সিঙ্গুরিয়া, পাঁচপাড়া ও মনুয়া-ডুবুরিয়া নিয়ে গঠিত একটি ওয়ার্ডেও নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। এমন পরিস্থিতি কেবল শিক্ষার সুযোগ সীমিত করছে না, বরং একটি প্রজন্মকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত জরিপ ও সঠিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দুই-তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করলে এই সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। যদি ১৭৯টি বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের জন্য অন্তত ৫০টি নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যায়, তাহলে বরুড়ার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।


বরুড়ার একটি বড় সুবিধা হলো এর ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে বরুড়া উপজেলা । সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে বিদ্যালয় নির্মাণ করলে শিক্ষার্থীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। ফলে কম সংখ্যক বিদ্যালয় দিয়েই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব।

অর্থনৈতিকভাবে বরুড়া একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। কৃষি উৎপাদন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং মৎস্য খাতে অবদানের কারণে এই অঞ্চল কুমিল্লা জেলা ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলায় খাদ্য  ও সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রেও উন্নয়ন ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষা শুধু ব্যক্তির উন্নয়ন নয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের প্রধান হাতিয়ার। তাই বরুড়ার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার ঘাটতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে বরুড়া উপজেলাকে একটি শিক্ষাবান্ধব ও উন্নত জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব।

এখনই সময়—বরুড়ার প্রতিটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার।

এ বিষয় বরুড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২/৩ গ্রাম মিলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলে উপজেলা শিক্ষা ব্যবস্হা এগিয়ে যাবে। ২ থেকে আড়াই হাজার লোকজন হলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পারে। বরুড়া জনবসতি এলাকা, এ বিষয় উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি বলেন বরুড়া একটি উন্নয়নশীল এলাকা। এ উপজেলায় অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা রয়েছে। সকলের সহোযোগিতা করে বরুড়া উপজেলা কে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে।  আশা করছি এ বিষয় টি বরুড়া উপজেলা সমাধান হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


বরুড়ায় ১৭৯ গ্রামে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা—৩৩৩টি গ্রাম, ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ১৯৫৪ সালে থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজকের এই উপজেলা। কৃষি, প্রবাসী আয় ও মৎস্য উৎপাদনে এগিয়ে থাকা বরুড়া সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এগোলেও, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি চোখে পড়ে।

উপজেলায় বর্তমানে ১৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে—১৭৯টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক গ্রামের শিশুরা এখনও নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এতে করে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ঝরে পড়ার হার বাড়ে এবং শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


বিশেষ করে বরুড়া পৌরসভার ভেতরে পুরানকাদবা, কালিন্লজিপাড়া লতিফপুর এবং কামেড্ডা, পাঁচপুকুরিয়া, হবিরগাঁও, সোনারগাঁও ও বেলভুজ—এমন ছয়টি পাশাপাশি গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে এই এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। একইভাবে উপজেলার বড় ও জনবহুল গ্রাম—মস্কিপুর, জীবনপুর, কাঞ্চনপুর, কালামুড়ি, চিতড্ডা, বড় ভাতুয়া, নোয়াদ্দা কানাইল ও মধ্যলক্ষীপুর—এগুলোর অনেকগুলোতেই নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


লক্ষীপুর ইউনিয়নের বদরপুর, সিঙ্গুরিয়া, পাঁচপাড়া ও মনুয়া-ডুবুরিয়া নিয়ে গঠিত একটি ওয়ার্ডেও নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। এমন পরিস্থিতি কেবল শিক্ষার সুযোগ সীমিত করছে না, বরং একটি প্রজন্মকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত জরিপ ও সঠিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দুই-তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করলে এই সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। যদি ১৭৯টি বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের জন্য অন্তত ৫০টি নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যায়, তাহলে বরুড়ার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।


বরুড়ার একটি বড় সুবিধা হলো এর ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে বরুড়া উপজেলা । সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে বিদ্যালয় নির্মাণ করলে শিক্ষার্থীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। ফলে কম সংখ্যক বিদ্যালয় দিয়েই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব।

অর্থনৈতিকভাবে বরুড়া একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। কৃষি উৎপাদন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং মৎস্য খাতে অবদানের কারণে এই অঞ্চল কুমিল্লা জেলা ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলায় খাদ্য  ও সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রেও উন্নয়ন ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষা শুধু ব্যক্তির উন্নয়ন নয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের প্রধান হাতিয়ার। তাই বরুড়ার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার ঘাটতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে বরুড়া উপজেলাকে একটি শিক্ষাবান্ধব ও উন্নত জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব।

এখনই সময়—বরুড়ার প্রতিটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার।

এ বিষয় বরুড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২/৩ গ্রাম মিলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলে উপজেলা শিক্ষা ব্যবস্হা এগিয়ে যাবে। ২ থেকে আড়াই হাজার লোকজন হলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পারে। বরুড়া জনবসতি এলাকা, এ বিষয় উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি বলেন বরুড়া একটি উন্নয়নশীল এলাকা। এ উপজেলায় অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা রয়েছে। সকলের সহোযোগিতা করে বরুড়া উপজেলা কে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে।  আশা করছি এ বিষয় টি বরুড়া উপজেলা সমাধান হবে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত