মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

মানবিক কর্মকাণ্ডে বাধা, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ

বেগমগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আতঙ্কের নাম পলাশ মেম্বার

বেগমগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আতঙ্কের নাম পলাশ মেম্বার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য পলাশ মেম্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানবিক উদ্যোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবরের উপর ভবন নির্মাণ, ঘুষ বাণিজ্য, জুয়া ও মাদকসেবীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, প্রভাব বিস্তার এবং কথিত লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে পলাশ মেম্বারের বিরুদ্ধে। তবে ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, মানবিক সংগঠন “প্রতিবাদী কণ্ঠ” বিভিন্ন সামাজিক অন্যায়, দুর্নীতি ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করায় শুরু থেকেই সংগঠনটির উপর ক্ষুব্ধ একটি প্রভাবশালী মহল। বিশেষ করে কবরের উপর ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনটির কার্যক্রমে বাধা, হুমকি ও চাপ সৃষ্টি বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ মে ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারিশ কামলা বাড়ির সাগরের ছেলে অনিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে প্রকাশ্যে অনিককে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা না রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এছাড়া অনিকের ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে অনিক ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, অনিক এলাকার তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ফুটবল খেলার আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সেই সামাজিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনিকের বাবা সাগর বলেন,

“ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আমার ছেলের উপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়ংকর। এখন আমরা আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় আবার হামলা হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,

“আমি চাই না আর কেউ আমার ছেলেকে ফুটবল খেলার জন্য ডাকুক। একটি সামাজিক উদ্যোগের কারণে আজ আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই হুমকি, হামলা ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।


এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যদি এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এলাকাবাসী অনিকের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


বেগমগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আতঙ্কের নাম পলাশ মেম্বার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য পলাশ মেম্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানবিক উদ্যোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবরের উপর ভবন নির্মাণ, ঘুষ বাণিজ্য, জুয়া ও মাদকসেবীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, প্রভাব বিস্তার এবং কথিত লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে পলাশ মেম্বারের বিরুদ্ধে। তবে ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, মানবিক সংগঠন “প্রতিবাদী কণ্ঠ” বিভিন্ন সামাজিক অন্যায়, দুর্নীতি ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করায় শুরু থেকেই সংগঠনটির উপর ক্ষুব্ধ একটি প্রভাবশালী মহল। বিশেষ করে কবরের উপর ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনটির কার্যক্রমে বাধা, হুমকি ও চাপ সৃষ্টি বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ মে ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারিশ কামলা বাড়ির সাগরের ছেলে অনিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে প্রকাশ্যে অনিককে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা না রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এছাড়া অনিকের ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে অনিক ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, অনিক এলাকার তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ফুটবল খেলার আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সেই সামাজিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনিকের বাবা সাগর বলেন,

“ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আমার ছেলের উপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়ংকর। এখন আমরা আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় আবার হামলা হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,

“আমি চাই না আর কেউ আমার ছেলেকে ফুটবল খেলার জন্য ডাকুক। একটি সামাজিক উদ্যোগের কারণে আজ আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই হুমকি, হামলা ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।


এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যদি এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এলাকাবাসী অনিকের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই