সকালের আলো ফোটে, কিন্তু বাজে না কোনো ঘণ্টা। খোলে না শ্রেণিকক্ষের দরজা। বাতাসে ভেসে আসে না কোনো পাঠের শব্দ, নেই কোমল কণ্ঠের উপস্থিতি, নেই স্বপ্ন বোনা তরুণীদের পদচারণা। চারদিকে শুধু নীরবতা,এক দীর্ঘ, ভারী, বেদনাময় নীরবতা। মনে হয়, সময় যেন এখানে বহু আগেই থমকে দাঁড়িয়েছে।
এ দৃশ্য কোনো পরিত্যক্ত ভবনের নয়, এটি একসময়ের বরুড়া উপজেলার স্বপ্নবাহী বেগম জহিরা মহিলা কলেজের। যে প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছিল নারীশিক্ষার আলো ছড়ানোর প্রত্যয়ে, আজ সেই প্রাঙ্গণই যেন নিজের অস্তিত্বের জন্য নীরবে কাঁদছে।
২০০০ সালে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল হাকিম নিজস্ব জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার দ্বার খুলে দেওয়া। সেই স্বপ্নের বীজ থেকে একদিন শিক্ষার সবুজ অঙ্কুর গজাবে—এমন বিশ্বাসই ছিল সবার। কিন্তু দুই যুগের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন আজ ধুলিধূসর স্মৃতি।
চলতি শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। ফলে পুরো ক্যাম্পাস এখন জনশূন্য। যেখানে একসময় বইয়ের পাতার শব্দ শোনা যেত, সেখানে এখন জমে আছে ধুলো। যে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কথা ছিল, সেখানে স্থানীয়রা খড়কুটা সংরক্ষণ করছেন। জ্ঞানের ঘর যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার পরিচয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের চালের টিন খুলে পড়ছে, দেয়ালে ধরেছে ফাটল, বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। মনে হয়, ভবনটি শুধু ভাঙছে না—ভেঙে পড়ছে একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যাশা, একটি প্রজন্মের সম্ভাবনা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন সরকারি তদারকি, ও কার্যক র উদ্যোগের অভাব, পার্শ্ববর্তী সরকারি কলেজের প্রতিযোগিতা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনাই এই অবস্থার জন্য দায়ী। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ও স্বল্প ব্যয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন। প্রতিযোগিতার এই বাস্তবতায় ধীরে ধীরে প্রাণ হারায় বেগম জহিরা মহিলা কলেজ।
শিক্ষার্থী না থাকায় পাঠদান কার্যত বন্ধ। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে পাঠ দেওয়ার বদলে আজ ভাবছেন জীবিকা বাঁচানোর কথা। কেউ খুঁজছেন নতুন চাকরি, কেউ অন্য পেশার সন্ধানে। শিক্ষা দেওয়ার শপথ নেওয়া মানুষগুলো আজ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি এভাবেই হারিয়ে যাবে? যে ভবনে একদিন স্বপ্নের আলো জ্বালানোর অঙ্গীকার ছিল, সেটি কি শেষ পর্যন্ত খড়ের গুদাম হিসেবেই পরিচিত হবে? তাঁরা দ্রুত সংস্কার, প্রচারণা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
সকালের আলো ফোটে, কিন্তু বাজে না কোনো ঘণ্টা। খোলে না শ্রেণিকক্ষের দরজা। বাতাসে ভেসে আসে না কোনো পাঠের শব্দ, নেই কোমল কণ্ঠের উপস্থিতি, নেই স্বপ্ন বোনা তরুণীদের পদচারণা। চারদিকে শুধু নীরবতা,এক দীর্ঘ, ভারী, বেদনাময় নীরবতা। মনে হয়, সময় যেন এখানে বহু আগেই থমকে দাঁড়িয়েছে।
এ দৃশ্য কোনো পরিত্যক্ত ভবনের নয়, এটি একসময়ের বরুড়া উপজেলার স্বপ্নবাহী বেগম জহিরা মহিলা কলেজের। যে প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছিল নারীশিক্ষার আলো ছড়ানোর প্রত্যয়ে, আজ সেই প্রাঙ্গণই যেন নিজের অস্তিত্বের জন্য নীরবে কাঁদছে।
২০০০ সালে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল হাকিম নিজস্ব জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার দ্বার খুলে দেওয়া। সেই স্বপ্নের বীজ থেকে একদিন শিক্ষার সবুজ অঙ্কুর গজাবে—এমন বিশ্বাসই ছিল সবার। কিন্তু দুই যুগের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন আজ ধুলিধূসর স্মৃতি।
চলতি শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। ফলে পুরো ক্যাম্পাস এখন জনশূন্য। যেখানে একসময় বইয়ের পাতার শব্দ শোনা যেত, সেখানে এখন জমে আছে ধুলো। যে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কথা ছিল, সেখানে স্থানীয়রা খড়কুটা সংরক্ষণ করছেন। জ্ঞানের ঘর যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার পরিচয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের চালের টিন খুলে পড়ছে, দেয়ালে ধরেছে ফাটল, বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। মনে হয়, ভবনটি শুধু ভাঙছে না—ভেঙে পড়ছে একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যাশা, একটি প্রজন্মের সম্ভাবনা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন সরকারি তদারকি, ও কার্যক র উদ্যোগের অভাব, পার্শ্ববর্তী সরকারি কলেজের প্রতিযোগিতা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনাই এই অবস্থার জন্য দায়ী। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ও স্বল্প ব্যয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন। প্রতিযোগিতার এই বাস্তবতায় ধীরে ধীরে প্রাণ হারায় বেগম জহিরা মহিলা কলেজ।
শিক্ষার্থী না থাকায় পাঠদান কার্যত বন্ধ। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে পাঠ দেওয়ার বদলে আজ ভাবছেন জীবিকা বাঁচানোর কথা। কেউ খুঁজছেন নতুন চাকরি, কেউ অন্য পেশার সন্ধানে। শিক্ষা দেওয়ার শপথ নেওয়া মানুষগুলো আজ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি এভাবেই হারিয়ে যাবে? যে ভবনে একদিন স্বপ্নের আলো জ্বালানোর অঙ্গীকার ছিল, সেটি কি শেষ পর্যন্ত খড়ের গুদাম হিসেবেই পরিচিত হবে? তাঁরা দ্রুত সংস্কার, প্রচারণা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন