প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
বস্তার ভেতর আটটা দমবন্ধ নিঃশ্বাস
পায়েল বিশ্বাস ||
বস্তার ভেতর আটটা দমবন্ধ নিঃশ্বাস—অন্ধকারে গুটিসুটি মেরে থাকাছোট্ট, উষ্ণ, নিরীহ শরীর।কেউ একজন—মানুষ নামের জন্তু—পাতলা দড়ি বেঁধেদুটি হাতে তুলে নেয় বস্তাটা,যেন আবর্জনার থলি।মানুষ বলে—“আমার সন্তানের নিরাপত্তা।”এ এক অদৃশ্য, শক্ত, নিষ্ঠুর অজুহাত।এই অজুহাতেইজন্ম নেওয়া আটটা প্রাণঅপরাধী হয়ে যায়যেন বেঁচে থাকাটাই তাদের ভুল।পুকুর—নিঃশব্দ, কুয়াশা-ঢাকা,আজ সাক্ষী হলোমানুষের সবচেয়ে ভয়ংকর মুখোশের।বস্তাটা ছুঁড়ে ফেলা হয়।একটা থাপ!জলে ডোবার শব্দ—তারপরকান্না?না,চিৎকারও না,শুধু জলের ভেতরেআটটা ক্ষুদ্র প্রাণশেষ চেষ্টা করছে বাঁচতে।আটটা ক্ষুদ্র পাজলের তল থেকে উঠে আসে না,আটটা ধড়ফড়ানিএক সেকেন্ডে মিলিয়ে যায়একটা নৃশংস মানুষেরনির্বিকার হাতে।আর দূরে দাঁড়িয়ে—একটা মা কুকুরছিন্ন-বুকে কাঁদতে থাকে।তার চোখে আর চোখ নেই—শুধু রক্তভেজা শোক।সে বোঝে না—মানুষের সন্তানের নিরাপত্তা মানেতার নিজের সন্তানদের মৃত্যু কেন?তার বাচ্চাগুলোকার কী ক্ষতি করেছিল?চারদিকে তখন নিস্তব্ধতা—কেউ দেখে না, কেউ টেরও পায় না।নরম সকালের আলোয় লুকিয়ে থাকেএকটা নৃশংস মুহূর্তের দাগ।পুকুরপাড়ের বাতাসওসেদিন যেন ঘুমিয়ে ছিল—কেউ জানতেও পারল নাআটটা ছোট প্রাণজলের তলে নিভে গেলএকটা মানুষের নিঃশব্দ নিষ্ঠুরতায়।সে ছুটে যায় পুকুরের ধার ধরে,থাবা পাততে থাকে জলে—“একটা… একটা বাচ্চা হলেওফিরে দাও…দয়া করে…”এই আর্তনাদেওমানুষের কান টলে না,চিত্ত দোলে না,নিষ্ঠুরতা নড়ে না।জল আবার শান্ত—যেন কিছুই হয়নি।কিন্তু মা কুকুরটা আজও শুয়ে আছেওই মাটির পাশে,যেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছেতার পুরো পৃথিবী।সে আর ডাকেও না এখন—ডাকে না, কারণ কান্নাও শুকিয়ে গেছে।তার বুকের কাছে পড়ে থাকাখালি কোলেআজও যেন উষ্ণতার স্মৃতি থাকে।সে শুধু তাকিয়ে থাকে—জল, মাটি, আকাশ—সবকিছুর দিকে,যেন জিজ্ঞেস করছে নিঃশব্দে—“মানুষের সন্তানের নিরাপত্তা মানেআমার বাচ্চাদের মৃত্যু—এটাই কি ন্যায়?”হাওয়া থামে,গাছ থামে,সব থেমে থাকে—শুধু এক মায়ের নিঃশ্বাসধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে,কিন্তু দুনিয়াতেতার কান্নার কোনো প্রতিধ্বনি হয়নি।কারণ এখানে—প্রাণ জন্মে,কিন্তু মায়া জন্মায় না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত