প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শান্তিগঞ্জে আবাদি জমির মাটি লুটের মহোৎসব
এরশাদুল হক, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ||
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডেকার হাওরে আবাদি জমির উর্বর মাটি লুটের মহোৎসব চলছে। ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের দোহাই দিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ‘এস্কেলেটর’ (ভেকু) মেশিন বসিয়ে হাওরের বুক চিরে উর্বর মাটি সাবাড় করছে। প্রশাসনের অনুমতিহীন এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রকাশ্যে চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের রনসি গ্রামের পূর্ব পাশে ডেকার হাওরে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মিজান মিয়া (শিক্ষক), লূতফুর মিয়া, আনিস আলী, মনির মিয়া, সাদিক মিয়া (মেম্বার) ও সইফুর মিয়াসহ একটি চক্র বিশাল আকৃতির ভেকু মেশিন দিয়ে একের পর এক আবাদি জমি গভীর করে খনন করছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কাগজে-কলমে ফসল রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কথা বলা হলেও সংগৃহীত মাটির সিংহভাগই চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে। সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি ট্রলি দিয়ে কাটা মাটি কেউ নিয়ে যাচ্ছেন বসতবাড়ির ভিটা ভরাট করতে, আবার কেউ তা ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত রাস্তার কাজে। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, আবাদি জমি থেকে এভাবে মাটি কাটা এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পরিবেশ আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (Topsoil) কেটে নিলে সেই জমির উর্বরতা ফিরে পেতে কয়েক দশক সময় লাগে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, ভেকু দিয়ে যত্রতত্র গভীর গর্ত করার ফলে বর্ষা মৌসুমে হাওরে পানির প্রবল চাপে বাঁধ ধসে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে করে ডেকার হাওরের কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।রণসি গ্রামের এক প্রবীণ কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাঁধের নাম শুনলে আমরা সাধারণ কৃষকরা ভয়ে কিছু বলতে পারি না। কিন্তু আমাদের চোখের সামনে জমির উর্বর মাটি কেটে মানুষের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই গভীর গর্তের কারণে বর্ষায় স্রোতের বেগ বাড়বে এবং আমাদের সারা বছরের রুটি-রুজি এই ফসল তলিয়ে যাবে।"এ বিষয়ে জানতে চাইলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ-জোহরা বলেন, "ফসলি জমির মাটি কাটা বা কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ফসল রক্ষা বাঁধের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থে ভেকু ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হোক এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় ‘ফসল রক্ষা’র এই কথিত কাজই ভবিষ্যতে কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। ভুক্তভোগী কৃষকরা এখন এই লুটতরাজ বন্ধে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত