প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা
মোহাম্মদ আলী সুমন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দল। জোটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার পর রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল না।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, জোটভুক্ত ১১ দলের মধ্যে আপাতত ৮ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে—• বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ১৭৯ আসন• জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০ আসন• বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২০ আসন• খেলাফত মজলিস: ১০ আসন• এলডিপি: ৭ আসন• এবি পার্টি: ৩ আসন• নেজামে ইসলাম পার্টি: ২ আসন• বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি): ২ আসনতিনি আরও জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন ও জাগপা–এর আসন বণ্টন বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসে জোটভুক্ত ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। ওই বৈঠকেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অনুপস্থিত ছিল।বৈঠক শেষে জানানো হয়, রাতের সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা উপস্থিত না হলে আপাতত ২৫০ আসনে একক জোট প্রার্থী ঘোষণা করা হবে এবং বাকি ৫০ আসন চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বণ্টন করা হবে।দুপুরের বৈঠক শেষে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে। তিনি ইতোমধ্যে চরমোনাই পীরের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।এ বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, “১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। আশা করছি, তাদের সঙ্গে নিয়েই চূড়ান্ত আসন সমঝোতা করা সম্ভব হবে।”জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। জনগণের মধ্যে এ জোট নিয়ে প্রত্যাশা আছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব। মতভিন্নতা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা দূর হবে।”তিনি আরও বলেন, “৩০০ আসনেই জোটের প্রার্থী থাকবে। কোনো দল আলাদা প্রার্থী দেবে না। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে।”দুপুরের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটভুক্ত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত