প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভ্রমণ ও বিনিময়ে বাস্তব চীনকে জানছে মার্কিন শিক্ষার্থীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ||
"চীন-মার্কিন সম্পর্কের আশা জনগণের মধ্যে এবং ভবিষ্যত যুব সমাজের মধ্যে নিহিত।" গত ৭ জানুয়ারি মার্কিন যুব শিক্ষা বিনিময় দলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিঠির উত্তরে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং অন্তরঙ্গ আবেগ দিয়ে আরও বেশি মার্কিন যুবক-যুবতীকে দুই দেশের বন্ধুত্বের নতুন প্রজন্মের দূত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে আসা এই জবাবি চিঠিটি মার্কিন যুবক-যুবতীদের চীন সফরের আগ্রহের প্রতি একটি আন্তরিক সাড়া এবং চীন-মার্কিন বন্ধুত্বের লক্ষ্যে আগামী প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তাঁর গভীর প্রত্যাশার প্রতিফলন।ফ্লোরিডা থেকে বেইজিং, মিসিসিপি নদীর তীর থেকে ইয়াংজি নদীর তীর পর্যন্ত, "৫ বছরে ৫০ হাজার মার্কিন যুবক-যুবতীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ" উদ্যোগ চালু হওয়ার পর থেকে, ইতিমধ্যে ৪০ হাজারের বেশি মার্কিন যুবক-যুবতী এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এই সংখ্যার পিছনে রয়েছে আন্তরিক বন্ধুত্বের গল্প, বাস্তব চীনকে জানার অসংখ্য জানালা, এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টার গল্প। সি চিন পিং বলেন, এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময় ও সহযোগিতা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সহজাত আকাঙ্ক্ষা।ক্রীড়া খাতের বিনিময়ে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। গত দুই বছরে, অনেক মার্কিন যুবক-যুবতী চীনে যোগব্যায়াম, পাতুয়ানচিন, থাইচিছুয়ান ইত্যাদি কোর্স সম্পন্ন করেছেন এবং বাস্কেটবল, টেবিল টেনিস, বেসবল ক্লাসসহ বন্ধুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ১৯৭১ সালে মার্কিন পিং-পং দলের চীন সফরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চীনের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং 'পিং-পং কূটনীতি'-র চেতনা অব্যাহত রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের যুব পিকলবল দল সাংহাই, শেনচেন, বেইজিং ইত্যাদি স্থানে গিয়ে বলের মাধ্যমে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছে; পিকলবল চীন-মার্কিন যুব বিনিময়ের নতুন সেতুতে পরিণত হয়েছে।সংস্কৃতির মধ্যে নিমজ্জিত হলে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর হয়। বেইজিং রোস্ট ডাক, ডাম্প্রিং ও স্প্রিং রোল বানানো, 'জিহ্বায় চীনা সংস্কৃতি' টেস্ট করার অভিজ্ঞতা; চীনা ক্যালিগ্রাফি লেখা, কাগজ তৈরির অভিজ্ঞতা, হানফু পোশাক পরা - চীনা সভ্যতার স্পন্দন স্পর্শ করা। বেইজিং-এ নিষিদ্ধ শহর দেখা, শি’য়ান-এ টেরাকোটা যোদ্ধা দেখা, সাংহাইয়ে ইউউউয়ান পার্ক দেখা... মার্কিন যুবক-যুবতীরা হেঁটে হেঁটে বর্ণিল চীন দেখেছে, হৃদয় দিয়ে বাস্তব চীনকে উপলব্ধি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া রাজ্যের মাসকাটিন মিডল স্কুলের শিক্ষার্থী কলিন বলেন, চীনা স্থাপত্যের বিশদ অংশ খুব পরিশীলিত, 'চীনা সংস্কৃতি আসলে চমৎকার'। বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষার মাধ্যমে বন্ধুত্ব শিকড় গাড়ে। সবুজ উন্নয়নের ওপর দৃষ্টি রাখা 'ইয়াংজি-মিসিসিপি' চীন-মার্কিন যুব বৃত্তাকার সভা থেকে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা 'কুলিং ইউয়ান' চীন-মার্কিন যুবক বিনিময় সপ্তাহ এবং ছুংছিং, বেইজিং, সাংহাই, চিয়াংসু ইত্যাদি স্থানে সরেজমিন গবেষণা ও বিনিময় সফর পর্যন্ত, চীন-মার্কিন যুব প্রতিনিধিরা সামনা-সামনি বিনিময়ে জ্ঞানের স্পিরিট উদ্দীপ্ত করেছেন। একটি বাস্তব, ত্রিমাত্রিক ও সামগ্রিক চীন, ক্রমবর্ধমান মার্কিন যুবক-যুবতীর হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলছে।যুবক-যুবতীরা দেশের ভবিষ্যত। দুই দেশের যুবক-যুবতীদের পারস্পরিক আকর্ষণের মধ্যে, চীন-মার্কিন সাংস্কৃতিক বিনিময়ের আরও সমৃদ্ধ দৃশ্যপট ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে; যুবকদের বোঝাপড়া বাড়ানোর ও বন্ধুত্ব অর্জনের পাশাপাশি একসাথে বেড়ে উঠতে সহায়তা করছে। '৫ বছরে ৫০ হাজার' উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাকশন হিসাবে ধরে, চীন-মার্কিন সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ব্যাপকতা ও গভীরতা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চীন-মার্কিন সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য একটি শক্ত জনসমর্থনের ভিত্তি স্থাপন করছে।চীন-মার্কিন সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিভিন্ন রূপ, যেমন চীনে পড়াশোনা করা, শিক্ষার্থী বিনিময়, আন্তর্জাতিক গ্রীষ্মকালীন স্কুল ইত্যাদি, চীন-মার্কিন যুব প্রজন্মের বোঝাপড়া বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ ও ঐক্যমত তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা মার্কিন যুব প্রজন্মকে চিন্তার সীমাবদ্ধতা ভাঙতে এবং একটি বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিসঙ্গত 'চীন দৃষ্টিভঙ্গি' গঠনে সহায়তা করে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী টফি ওমিসোল বলেন, 'আমরা যত বেশি চীনে আসব, চীনের শিক্ষার্থীদের সাথে যত বেশি বিনিময় করব, আমরা চীন সম্পর্কে তত বেশি জানতে পারব। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে, আমাদের সহকর্মীদের মধ্যে আরও নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে আসতে পারব।'আরও বেশি মার্কিন যুবক-যুবতীকে চীন-মার্কিন বন্ধুত্বের লক্ষ্যে অংশগ্রহণ করে দুই দেশের বন্ধুত্বের নতুন প্রজন্মের দূত হওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন সি চিন পিং। সি চিনপিং-এর গভীর প্রত্যাশা চীন-মার্কিন যুব বিনিময়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। চীন-মার্কিন জনগণ পর্যায়ের বিনিময়ের উত্তাপ উভয় পক্ষের যৌথ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন; এই উৎসের প্রবাহ যেন অব্যাহতভাবে প্রবাহিত হয় ও ভবিষ্যতের পুষ্টি সাধন করে। আরও বেশি চীন-মার্কিন যুবক-যুবতী যেন দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অগ্রবর্তী শক্তিতে পরিণত হয়; যৌবনের সুর বাজায়, এবং বোঝাপড়া, বিশ্বাস, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির সিম্ফনি তৈরি করে। সূত্র:স্বর্ণা-আলিম-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত