প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
সুনামগঞ্জের উত্তর সুরমা নিয়ে স্বতন্ত্র উপজেলা বাস্তবায়নে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত
এরশাদুল হক, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ||
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর সুরমা নিয়ে স্বতন্ত্র উপজেলা বাস্তবায়নে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচিতে ১০ হাজার লোকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উত্তরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের জনবহুল স্পটে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল এগারোটায় সদর উপজেলার হালুয়াঘাট এবং ধারারগাও এলাকায় দিনব্যাপী এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে গণ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে বলে জানান উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের সদস্য সচিব সামসুল আলম রাসেল।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের সদস্য সচিব সামসুল আলম রাসেল বলেন, ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর আমাদের উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক,অলাভজনক এবং সামাজিক সংগঠন। আমাদের এই সংগঠনের লক্ষ্য হচ্ছে, সুরমা,জাহাঙ্গীরনগর এবং রঙ্গারচর ইউনিয়ন নিয়ে একটি স্বতন্ত্র উপজেলা বাস্তবায়ন। তাছাড়া সুরমা নদীর উপর সেতু, ডলুরা শুল্ক স্টেশন ইমিগ্রেশন সেন্টার, বালাকান্দা চলতি নদীর উপর সেতু সহ সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে আমাদের এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তিনি বলেন, বড়ই দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আমাদের এই উত্তরাঞ্চলের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নাই।আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও মনে হয় যেন,এই অঞ্চলটি একটি সিটমহল।যেখানে নদী প্রকৃতির আশীর্বাদ হওয়ার কথা, সেখানে আমাদের জন্য একটা অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা এই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণেই এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যদি আমাদের এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন হয়,তাহলেই আমাদের যে স্বপ্ন, আমাদের যে আকাংকার বাংলাদেশ বিনির্মান সম্ভব হবে। আমরা আমাদের সেই লক্ষ্য নিয়ে স্বতন্ত্র উপজেলা বাস্তবায়নের জন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের উত্তরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের তিনটি স্পটে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলমান আছে।ইতোমধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পেরেছি। আজকেও স্বাক্ষর সংগ্রহ চলমান আছে। আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে দশ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের নিকট দাবিগুলো সাবমিট করব।সুরমা ইউনিয়নের বেলাবড়হাটির আব্দুল করিম বলেন, বর্ডার সাইট থেকে এত দুর এসে এখানে গুদারার জন্য ১ ঘন্টা অপেক্ষা করা লাগে। সুরমা নদীর উপর হালুয়াঘাট এলাকায় একটি ব্রিজ হলে আমরা ৩ ইউনিয়ন এর মানুষের সুবিধা হবে।ছাত্র ছাত্রী,বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ এবং রোগীদের যাতায়াতে খুবই সুবিধা হবে। একই ইউনিয়নের বৈশেরপাড় গ্রামের কুলসুম বেগম বলেন, আমাদের কষ্টের কথা বলে প্রকাশ করার মত না। এই উওর পাড়ের মানুষ অনেক সমস্যায় আছে। আমরা মহিলা অনেক সময় ডেলিভারি রোগী নিয়ে হসপিটালে যেতে হয়, দেখা যায় নদীর তীরে এসে নৌকার জন্য আধঘন্টা অপেক্ষা করা লাগে। বৃদ্ধ মানুষ ও ছাত্র ছাত্রীদেরও পাড়াপারে অসুবিধা হয়। বৃষ্টির সময় নদী থেকে উটার সময় ছাত্র ছাত্রী ও মহিলারা পা পিছলে পরে যায়। দুর্ঘটনা ঘটে প্রায়ই। মোটর সাইকেল দিয়ে চলা ফেরা করতে হয় আমাদের। মোটরসাইকেল উঠা- নামায় সমস্যা হয়। অনেক সময় নদীতে পারে যায়। তাই এই উত্তর পাড়ের মানুষ চায় মঙ্গলকাটা আলাদা উপজেলা ও সুরমা ব্রিজ। ডলুরা শুল্ক টেশন ও ইমেগেশন। সব গুলো আমাদের অধিকার।সামনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে দলেই ক্ষমতায় যাবে,আমরা আশা করি, আমাদের এই দুঃখ দুর্দশায় এগিয়ে আসবেন।আমাদের ব্রীজটি নির্মাণ করে দিবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত