প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আইনের মোড়কে খুনিদের পুনর্বাসন: ইতিহাসের কাঠগড়ায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনজীবী
শাহিন আলম আশিক ||
জুলাই বিপ্লবের রক্তভেজা মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার কণ্ঠে খুনি ও ফ্যাসিস্টদের আইনি সুরক্ষার পক্ষে ওকালতি শোনা যায়, তখন তা কেবল বিস্ময়কর নয়—বরং চরম অবমাননাকর। দেড় দশকের দুঃশাসন, গুম, লুটপাট আর শত শত ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার পর একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধী দলের 'রাজনৈতিক অধিকার' নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের এই অতি-সংবেদনশীলতা মূলত শহীদদের রক্তের সাথে এক নিষ্ঠুর উপহাস।এই আইনি ওকালতির আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে শহিদ ওসমান হাদির মতো অগণিত মানুষের আর্তনাদ। যাকে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো, যার খুনিরা এখনো নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং যাদের আজ পর্যন্ত গ্রেফতার নিশ্চিত করা যায়নি—তাদের দলের পক্ষে যখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনজীবী সাফাই গান, তখন ন্যায়বিচার শব্দটাই অর্থহীন হয়ে পড়ে।নাগরিক হিসেবে, প্রশ্নগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও সোজাসাপ্টা:১. শহিদ হাদির রক্তের দাম কি তবে 'রাজনৈতিক অধিকার'? ওসমান হাদিকে হত্যার হুমকি থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে গুলি করার দুঃসাহস যারা দেখাল, সেই দলের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা কি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল? খুনিরা যখন ধরাছোঁয়ার বাইরে, তখন তাদের দলকে টিকিয়ে রাখার এই ব্যাকুলতা কিসের ইঙ্গিত?২. পেশাগত নৈতিকতা বনাম রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনজীবীর মতো একটি নিরপেক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ পদটিকে স্রেফ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ আজ মুখে মুখে। এই পদটিকে 'লঞ্চিং প্যাড' হিসেবে ব্যবহার করে পদত্যাগ ও নির্বাচনে যাওয়ার যে উদগ্র আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে, তা কি কেবল ক্ষমতা আর লোভের বহিঃপ্রকাশ নয়? রাষ্ট্রের চেয়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বড় করে দেখা কি শহীদদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা নয়?৩. গণহত্যার দায় কি শুধু ব্যক্তির? দলীয় সিদ্ধান্তে যখন একটি রাষ্ট্রযন্ত্রকে খুনি বাহিনীতে পরিণত করা হয়, তখন সেই দায় কোনোভাবেই কেবল 'ব্যক্তি'র ওপর চাপিয়ে দলটিকে দায়মুক্তি দেওয়া যায় না। আইনের অক্ষর দিয়ে খুনিদের রাজনৈতিক ঢাল হওয়া মূলত নৈতিক দেউলিয়াপনারই নামান্তর।আইনের মারপ্যাঁচে শহিদ হাদির রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না। যে পদটি ছিল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, সেটি যখন ফ্যাসিবাদীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন ইতিহাস সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করবে না। মানুষের জীবনের চেয়ে যাদের কাছে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ আর পদ-পদবি বড়, তারা আর যাই হোক—বিপ্লবের চেতনার ধারক হতে পারেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত