প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
শাহরাস্তিতে রাত হলেই উৎসবে মেতে উঠে মাটি ব্যবসায়ীরা
মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু, ||
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাত হলেই কৃষি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার মহোৎসবে মেতে উঠে মাটি ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের পক্ষ হতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হলেও এর কোন প্রভাব পড়েনি মাটি ব্যবসায়ীদের উপর। প্রতিনিয়ত ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ, বসতবাড়ি ও পুকুর ভরাটে মত্ত রয়েছে ওই সকল ব্যবসায়ীরা।জানা যায়, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার অধিকাংশ মাঠে রাতের আঁধারে ভ্যেকু দিয়ে এসব মাটি কাটা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বড়ুয়া মাঠ, সূচীপাড়া চাঁদপুর মাঠ, রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের দেহেলা মাঠ, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুঘুরচপ ও খিলা মাঠ, চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের শ্বেতী নারায়ণপুর মাঠ, পাথৈর মাঠ, পৌরসভার করবা, নোয়াগাঁও ও ছিখুটিয়া ব্রীজ সংলগ্ন মাঠ সহ সবকটি ইউনিয়নে একযোগে ব্যবসায়ীরা মাটি কাটার উৎসবে মেতে উঠেন। প্রশাসন স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেলেও অধিকাংশ স্থানে গিয়ে পাচ্ছেন না ওই সকল ব্যবসায়ীদের। মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রশাসনের দৌড় গোড়ায় তাদের নিজস্ব সোর্স দিয়ে সার্বক্ষণিক খবরাখবর রাখছেন অভিযানের। এছাড়া বিভিন্ন বাজার ও সড়কে লোক রেখে প্রশাসনের গাড়ি দেখলেই তথ্য নিশ্চিত করে ব্যবসায়ীদের। এতে অভিযানে গিয়ে কাউকে না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় কর্মকর্তাদের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ব্যবসায়ী জানান, উপজেলার ২৪টি ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে এ মাটি সরবরাহ হয়ে থাকে। তাছাড়া মাছের বেড়ি, নতুন বসতবাড়ি প্রস্তুত ও পুকুর ভরাটের কাজেও মাটি সরবরাহ করছে ব্যবসায়ীরা। যা ওই সকল কৃষি জমি থেকেই সরবরাহ করতে হয়। ঘুঘুরচপ গ্রামের কৃষক মনির হোসেন জানান, যেভাবে রাত হলে মাটি কাটার প্রতিযোগিতা চলছে এতে খুব বেশি সময় লাগবে না আমাদের ফসল উৎপাদনে হুমকির মুখে পড়তে।শোরসাক গ্রামের কৃষক সোহরাব জানান, মাটি কাটায় শুধু যে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, মাটি সরবরাহ করতে যে ড্রাম ট্রাক ব্যবহার হচ্ছে এতে সড়কগুলোর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। ধুলাবালি ছাড়া তো সড়কের আশপাশের ঘরবাড়ির দেখাই মিলে না। তাছাড়া পথচারী, স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভাঙ্গা রাস্তা ও ধুলাবালি একটা বড় সমস্যায় ফেলছে। এ থেকে উত্তরণে মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।শ্বেতী নারায়ণপুর গ্রামের জমি মালিক আজহার জানান, আমরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে মাটি বিক্রি করতে হয়। আশপাশের জমি মালিকরা যখন তাদের জমি থেকে মাটি বিক্রি করে ফেলে তখন আমরা ওই জমির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হই, একপ্রকার বাধ্য হয়েই মাটি বিক্রি করে দেই। এসব কারণে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ফলন অর্ধেকের নিচে নেমে আসছে।উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ উপজেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর কৃষি জমি আবাদি রয়েছে। আবাদি জমির মাটি কাটার ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনেক কৃষক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই টপ সয়েল বিক্রি করছে। আমরা তাদের নানাভাবে সচেতন করার পরও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানান, টপ সয়েল কাটার অপরাধে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মাটি কাটায় ব্যবহৃত ভ্যেকুর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, পাশাপাশি আমরা সবাইকে মাটি কাটা বন্ধে সচেতন হওয়ার কথা বলছি। টপ সয়েল কাটা বন্ধ রাখতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে টপ সয়েল কাটা বন্ধে কঠোর অভিযান এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে শাহরাস্তির কৃষি ও পরিবেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত