প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
এনসিটি ইজারা বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দু’দিনের ধর্মঘটের ডাক
স্টাফ রিপোর্টার ||
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে দু’দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সংগঠনটির সাবেক সিবিএ।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে পূর্ণ দিবস ধর্মঘট পালন করা হবে। পরদিন রোববার একই সময়ে (সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা) বন্দরের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সংগঠনটির সাবেক সিবিএ নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন অভিযোগ করেন, দেশের সার্বিক নির্বাচনী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকার দেশের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।তিনি বলেন, “গত দেড় বছর ধরে আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া একটি চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে।”ইব্রাহিম খোকন আরও জানান, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতেই এই ধর্মঘট কর্মসূচি। দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।প্রসঙ্গত, চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত বছর এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। ওই রিটের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেন। ফলে চুক্তি বাস্তবায়নে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের ওপর বিভক্ত রায় দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার ভিন্নমত দিয়ে রিট আবেদন খারিজ করেন।পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত