প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুনের মামলার আসামিদের নিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তার ‘গোপন বৈঠক
সাভার , প্রতিনিধি ||
সাভার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর দায়ের করা এক অভিযোগে ‘মসজিদ সমাজ বাংলাদেশ’ জানিয়েছে, একজন সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফেরারি আসামিদের সুরক্ষা দিতে নেপথ্যে কাজ করছেন।ফেরারি আসামিদের সঙ্গে গোপন বৈঠকঅভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাজধানীর লালমাটিয়ায় ‘মসজিদ সমাজ বাংলাদেশ’-এর কার্যালয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলার (নং ১০০(১)২৫ এবং সিআর ৫৬০/২৪) এজাহারভুক্ত ১৯২, ১৯৩ ও ১৯৪ নম্বর আসামি যথাক্রমে দেওয়ান মো. মিজানুর রহমান, রফিকুল ইসলাম জজ এবং সেলিম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে ফেরারি আসামিদের সঙ্গে সভা করলেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।প্রতিষ্ঠান দখল ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের অভিযোগঅভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কে এম শহীদুজ্জামান সাবেক বিতর্কিত মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তিনি একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৌশলে সাভারে পুনরায় বহাল হন।তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘মসজিদ সমাজ বাংলাদেশ’-কে ব্যবহার করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জনাব নওয়াব আলী ভূইয়ার দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি।আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনশহীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিগত সরকারের প্রচারণা এবং বিপ্লব পরবর্তী সময়ে সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ডকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।"জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে খুনিদের সঙ্গে বৈঠক করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। আমরা তাকে দ্রুত অপসারণ করে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।" > — মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক কর্মকর্তা, মসজিদ সমাজ বাংলাদেশ।পরবর্তী পদক্ষেপজানা গেছে, অভিযোগের অনুলিপি ইতিমধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না এলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংক্ষুব্ধ পক্ষটি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত