প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুমিল্লা-৯ আসনে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে প্রচারণা, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
মাসুদ পারভেজ রনি, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ||
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জে) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র এক প্রার্থী থাকলেও ভোটাররা বলছেন, লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। আলোচনার শীর্ষে আছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম এবং ১১দলীয় জোট প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী। ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজীম দোলা নির্বাচন থেকে সরে এসে ধানের শীষ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সভা-সমাবেশ যোগদান করায় নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে চলেছে। জানা যায়, ২৫৭ কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে এ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ২‘শ ৯৬ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১জন, পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত পুরুষ ভোটার ১০ হাজার, ৪‘শ ৬৯ জন, মহিলা ভোটার ৬‘শ ৯৪ জনসহ মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫‘শ ৩৫ জন। দুই উপজেলায় ১৩৪ টি কেন্দ্রে ৯৬৪ টি কক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে এবার মোট আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইয়ে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন চার প্রার্থী। এরা হলেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী, চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী মীর মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম মাহমুদ। এছাড়াও এ নির্বাচনে আরও তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রার্থীর উপস্থিতি এবং তাদের প্রচার প্রচারণা নেই। ওই তিন প্রার্থী হলেন, জাতীয় পার্টি প্রার্থী প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট প্রার্থী মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী (ছড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবুল কাসেম (হাঁস)। ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক জরিপ, তরুণ ভোটারদের সমর্থন ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির দূর্গ ও ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তিনি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত কর্নেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিমের কন্যা স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা ভোট বর্জন করে ধানের শীষকে সমর্থন করায় বিএনপি প্রার্থী জয়ের সুবাতাস পাচ্ছেন বলেও তারা জানান। দোলা বিএনপির মনোনয়ন লাভের জন্য ব্যাপক লবিং করেছিলেন। দল তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তবে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ এবং জেলা নেতাদের সমন্বয়ে তিনি স্বতন্ত্র ভোটের মাঠ বর্জন করে ধানের প্রতীকে বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। ধানের শীষের পক্ষে তার সরব উপস্থিতি ভোটারদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এদিকে, ১১ দলীয় জোট প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দীকিরও শক্ত অবস্থান রয়েছেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। প্রচারণায় তিনিও পিছিয়ে নেই। রাজনৈতিক দলের বাহিরে সমাজ সেবা, জনকল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত থাকা, বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ ভিন্ন রকম জনপ্রিয়তা রয়েছে তার। এই জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তিনি রয়েছেন ভোটের মাঠে ফুরফুরে মেজাজে। নির্বাচনী মাঠে জেন-জিদের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের মালা পরতে চান তিনি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ছাত্র-জনতা এবং নিজ জনপ্রিয়তায় জয় চিনিয়ে আনতে চান ১১দলীয় জোট প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা বাহক ড. ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দীকি। অপরদিকে, গণসংযোগে বসে নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সেলিম মাহমুদ ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। ইসলামিক দল হিসেবে তারাও ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত এ আসনের দুই উপজেলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী আবু বকর এর আগেও এ আসনে নির্বাচন করেছেন। ফলে ভোটারদের কাছে তিনি একজন পরিচিত মুখ। সুন্নী জোটের প্রার্থী হিসেবে তারও ভোটার রয়েছে অনেক। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সেলিম মাহমুদ চরমোনাই অনুসারীদের পছন্দের একজন প্রার্থী। তিনিও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এলাকায় তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। বাকী তিন প্রার্থী নাঙ্গল, ছড়ি, হাঁস তাদের দেখা নেই ভোটের মাঠ এবং প্রচার-প্রচারণায় । এদিকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এ সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণা, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটছেন। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরাও বসে নেই। দলবেঁধে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন তারা। তবে এবার কাগজের পোস্টার না থাকায় প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচারনা চালাচ্ছেন বেশি। তারা বেশি সরব হয়ে উঠেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। মাইকিংয়ের শব্দের পাশে ভেসে আসছে থিম সংয়ের সুর। মোবাইল ফোনে ঘুরছে প্রার্থীদের ভিডিও। ইউটিউব ও শর্ট ভিডিওতে ছড়াচ্ছে নির্বাচনি বার্তা। ডিজিটাল প্রচারণা পেয়েছে নতুন গতি। গান, ছন্দ, লিরিক আর কনটেন্টে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত দলগুলো। ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চমকপ্রদ ছন্দ, সুর আর লিরিকের থিম সং, রিলস ও গ্রাফিক পোস্টের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে চলছে এক ধরনের উন্মত্ত প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত