প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটের নিরাপত্তায় ৯ লাখ যৌথ সদস্য, মাঠে ১ হাজার ৫১ ম্যাজিস্ট্রেট
মোহাম্মদ আলী সুমন ||
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একইসঙ্গে নির্বাচন আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন থাকলেও আজ থেকে তাদের টহল ও কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।তিনি আরও জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে। পাশাপাশি ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হবে।বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূলে রয়েছে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, পুলিশের ১ লাখ ৫০ হাজার, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৫ হাজার সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া র্যাব, এপিবিএন ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবেন।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভিন্নতা আনা হয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ করতে হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে। এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৩ কোটি ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র।সব মিলিয়ে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত