প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রচারণার ইতি, এখন ব্যালটের লড়াই: ভোটের অপেক্ষায় দেশ
মোহাম্মদ আলী সুমন ||
প্রতীক বরাদ্দের পর টানা ২০ দিনের জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণার পর্দা নামল। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে এখন দেশজুড়ে কেবল ব্যালট যুদ্ধের অপেক্ষা।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে।নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ জন বিএনপির (ধানের শীষ), ২৫৮ জন ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা), ২২৯ জন জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) এবং ১৯৮ জন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল)। জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় আসন গাজীপুর-২ এবং সবচেয়ে ছোট আসন ঝালকাঠি-১।শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ৮১টি দেশীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক।প্রচারণার শেষ দিনে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর সাতটি এলাকাসহ মোট আটটি জনসভায় অংশ নেন এবং বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেন,আমাদের লড়াই শুধু ক্ষমতা দখলের নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।তিনি অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে শাসকরা নিজেদের মালিক মনে করবে না এবং সব প্রতিষ্ঠান সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিটিভিতে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, সততা, ইনসাফ ও দক্ষতাকে আমরা ‘হ্যাঁ’ বলছি, আর দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের মতো কালো অধ্যায়কে ‘না’ বলছি। দায়িত্ব পেলে প্রথম দিন থেকেই জনগণের কল্যাণে কাজ শুরু করবো।প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। একই সঙ্গে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট, যেখানে ভোটাররা তাদের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বিষয়ে মতামত দেবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত