প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নীলফামারীর ইটাখোলা ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ গ্রেপ্তার
মোঃ আবুল হাসেম , স্টাফ রিপোর্টার ||
একাধিক হত্যা ও নাশকতা মামলার পলাতক আসামি হিসাবে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। মুলত তিনি ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নীলফামারী জেলা পর্যায়ের নেতা এবং জেলা কৃষক লীগ-এর সহসভাপতি। স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, হেদায়েত আলী শাহ ফকির পতিত স্বৈরাচারী শাসনামলে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর-এর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে ছিলেন সর্বাধিক পরিচিত। ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্রাজেডি’ হত্যাকাণ্ডেও হেদায়েত আলী শাহ ফকির প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে বছরের পর বছর জেল, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধী দলীয় এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে ঘ করে দেন এবং কেন্দ্রজুড়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারার উৎসব শুরু করেন।এছাড়া চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়, ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায়ও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওইদিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়।৫ আগস্ট পতিত স্বৈরাচার দেশত্যাগের পর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরসহ একাধিক আওয়ামী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়।হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলাসমূহ:১. রামগঞ্জ ট্রাজেডি হত্যা মামলা-এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-৩২০/২৪, সদর থানা।২. ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলা—এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-২৬৯/২৪, সদর থানা।৩. ৪ আগস্ট জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা জিআর-২৬৭/২৪, সদর থানা। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যান্য সহিংসতা ও নাশকতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত