প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অস্বাস্থ্যকর আর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই
মোঃ আবুল হাসেম , স্টাফ রিপোর্টার ||
নীলফামারীর বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সেমাই কারখানাগুলো। কিন্তু সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর স্বাওুস্থ্যঝুঁকি তবে তা হয়ে ওঠে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও মৌসুমি কারখানায় নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। অভিযোগ রয়েছে, পচা ডিম, পশুর চর্বি (অ্যানিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন চলছে পুরোদমে।সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর খালেক পাম্প সংলগ্ন জুম্মাপাড়া এলাকা, কাজীরহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া ও গোলাহাটসহ বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব কারখানা। অধিকাংশেরই নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ডটেস্টিংইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন। নেই স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বা প্রয়োজনীয় তদারকি।নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ব্যবহার বাধ্যতামূলক।অথচঅধিকাংশ কারখানায় এসবের বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা কাজ করছেন; কোথাও কোথাও খোলা মেঝেতে শুকানো হচ্ছে সেমাই।বৈধ ও অনুমোদিত কয়েকটি কারখানার মালিকেরা অভিযোগ করেন, ভেজাল উৎপাদকদের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এক কারখানা মালিক বলেন, আমরা নিয়ম মেনে মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার করি। কিন্তু ভেজালকারীরা কম দামে বাজার ভরে ফেলায় প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ভেজাল ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ্ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের সময় প্রমাণ মিললেই তৎক্ষণাৎ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য মাঠে কাজ করছেন টীম।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত