প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
অতিরিক্ত ফি ও অনিয়মের অভিযোগে চর জব্বর ডিগ্রি কলেজে তালা, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
মোহাম্মদ ছানা উল্যা, নোয়াখালী ||
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ডিগ্রি কলেজে অতিরিক্ত ফি আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তারা।শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, চলমান এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রিসিট ছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং একই নম্বরে একাধিক রিসিট দেওয়ার মতো অনিয়মও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা। এছাড়া পুনরায় ভর্তি বাবদ এক হাজার টাকা নেওয়া এবং নিয়মিত ক্লাস না হওয়াসহ নানা অভিযোগও তোলেন শিক্ষার্থীরা।আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “চোরে রান্ধে, চোরে খায়”, “অতিরিক্ত ফি চোরের বিচার চাই”, “অধ্যক্ষ আসে ১২টায়, ক্লাস শুরু কয়টায়?” ইত্যাদি।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৯৯৫ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মানবিক বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৪৩৫ টাকার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে।পরে দুপুর ১২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলু, গভর্নিং বডির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার পর কলেজের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়।আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বোর্ড নির্ধারিত ফি অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৯৯৫ টাকা এবং মানবিক বিভাগে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টিও যাচাই করে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়।কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ফি আদায় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সিরাজ হায়দার বেলাল বলেন, “কলেজটি প্রতিষ্ঠার ৩২ বছরেও একটি ভালো অডিট হয়নি। শিক্ষার্থীদের অডিট করার দাবিটি যৌক্তিক। আশা করছি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে।”এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলু বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে আমি একমত। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা চলছে।”শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত