প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ আবুল হাসেম , স্টাফ রিপোর্টার ||
নীলফামারীর বাদিয়ার মোড়ে অবস্থিত দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে তেল উত্তোলন ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা ও তদারকির ঘাটতিতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে স্টেশনটিতে তেল বিতরণ শুরু হয়। তবে বিতরণকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার অসুস্থতার অজুহাতে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে তেলের গাড়ি থেকে কত পরিমাণ তেল আনলোড করা হয়েছে এবং মেশিনের রিডিং কত ছিল—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকির জন্য কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।তথ্যমতে, ওইদিন পার্বতীপুর ডিপো থেকে স্টেশনটিতে ৪৫০০ লিটার ডিজেল ও ৩৫০০ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। তবে পেট্রোলবাহী গাড়ি থেকে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু তেল আনলোড হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তেলের মজুত, উত্তোলন ও বিতরণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য স্টেশনের দৃশ্যমান বোর্ডে প্রদর্শন করা হয় না, যা স্বচ্ছতার পরিপন্থী।এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেওয়ান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সুমন আহমেদ বলেন, “সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা প্রশাসনকে রিপোর্ট করি।” তাঁর এমন বক্তব্যে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা স্পষ্ট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, তেল সরবরাহের শুরুতে মেশিনের রিডিং এবং বিক্রয় শেষে রিডিং সঠিকভাবে প্রকাশ না করলে মাঝখানে কারচুপির সুযোগ থেকে যায়। কেবল প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট দিয়ে দায়সারা মনোভাব দেখালে প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যেতে পারে।এছাড়া বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে প্রশাসনের দৃশ্যমান নজরদারিও লক্ষ্য করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—প্রাপ্ত পেট্রোলের পুরোটা কি আদৌ বিতরণ হয়েছে, নাকি কাগজে-কলমেই হিসাব দেখানো হচ্ছে?এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত