প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আত্রাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু
মোঃ মোজাক্কেরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার ||
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে বিহারীপুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে কিছু মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে রেললাইনের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন এটি একটি দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির দেহ। পরে দ্রুত স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।খবর পেয়ে সান্তাহার জি.আর.পি (Government Railway Police) থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায় এবং অনেকেই ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ধারণা প্রকাশ করেন।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী “লালমনি এক্সপ্রেস” ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো রহস্যজনক কারণ রয়েছে—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।সান্তাহার জি.আর.পি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, নিহত যুবকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার আনুমানিক বয়স প্রায় ৩০ বছর। তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন। ঘটনাস্থলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার পরনে ছিল কালো রঙের একটি টি-শার্ট এবং লুঙ্গি। শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ট্রেনে কাটা পড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য আশপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”এছাড়া মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহসানগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন ওই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। রেলগেট থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অসতর্কভাবে মানুষ রেললাইন পারাপার করে থাকে। এছাড়া ভোর বা গভীর রাতে আলো স্বল্পতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।কিছু স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাব রয়েছে। তারা দ্রুত সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানান।এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে ব্যস্ত রেলপথে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই রেললাইনে অসতর্কভাবে চলাচল, অবৈধ পারাপার এবং অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে সকলকে সতর্ক থাকা এবং রেলওয়ে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত