প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ষড়যন্ত্রের জালে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক: লক্ষ্য পদোন্নতি বঞ্চিত করা
শাহিন আলম আশিক, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ||
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে ঘিরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি কুচক্রী মহল।আসন্ন পদোন্নতি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে) এবং গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে।অভিযোগ রয়েছে, পেশাগত ঈর্ষা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা?সূত্র বলছে, রেজাউল করিম মল্লিক বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের 'জাতীয়তাবাদী শক্তির আদর্শিক কর্মকর্তা' হিসেবে পরিচিত। তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং সরকারের আস্থাভাজন হওয়াকে হুমকি হিসেবে দেখছে তাঁরই কিছু সিনিয়র এবং সমমর্যাদার কর্মকর্তা। সম্প্রতি একটি বিশেষ ইউনিটের প্রধান হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসতেই ষড়যন্ত্রকারীরা গোপন বৈঠক করে তাঁকে বিতর্কিত করার মিশন শুরু করে। মূলত অতিরিক্ত আইজিপি পদে তাঁর পদোন্নতি নস্যাৎ করাই এই অপতৎপরতার মূল লক্ষ্য।মিথ্যা অভিযোগ ও বাস্তব চিত্র:ষড়যন্ত্রকারীরা প্রচার করছে যে, ঢাকা রেঞ্জে ওসি পদায়নে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো: আইনি প্রক্রিয়া: থানায় ওসি পদায়নের সম্পূর্ণ এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি)। রেঞ্জ ডিআইজির এখানে সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। *ব্ল্যাকমেইলিং:* কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও দালাল তাঁকে ফোন করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।*ত্যাগ ও সংগ্রামের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার*:১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে যোগদান করেন রেজাউল করিম মল্লিক। প্রতিষ্ঠাতা: তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)'-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।বঞ্চনার ইতিহাস: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে ১৭ মাসের মাথায় চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ৪ বছর আইনি লড়াই করে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন। নির্যাতন: সিআইডিতে কর্মরত থাকাকালীন তাঁকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান।সাফল্যের আলোকচ্ছটা: ডিবি ও ঢাকা রেঞ্জ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভাবমূর্তি যখন সংকটে, তখন রেজাউল করিম মল্লিক ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।ডিবির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার:ডিবি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি 'ভাতের হোটেল' খ্যাত ডিবিকে একটি সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেন।হাই প্রোফাইল গ্রেপ্তার: ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি এবং বড় বড় কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তিনি জনমনে আস্থা ফিরিয়েছিলেন। স্পর্শকাতর এলাকায় শান্তি রক্ষা: গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো চ্যালেঞ্জিং এলাকায় আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।বিশ্লেষকদের অভিমত:রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন দক্ষ ও ত্যাগী কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতে বা পদোন্নতি আটকাতে চরিত্রহনন করা একটি পুরোনো কৌশল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে ছড়ানো এসব তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করলে তা পুলিশের পেশাদারিত্বের জন্য ক্ষতিকর হবে।সারকথা:ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের বিরুদ্ধে চলমান এই প্রোপাগান্ডা কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং পুলিশের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত