প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন, আটক ৫
মোঃ আবু জাফর সোহেল, স্টাফ রিপোর্টার ||
কুমিল্লায় আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব-১১, এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজন কে আটক করা হয়েছে।গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগী (৩৫) নামে এক কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সারসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ক্লুলেস এই হত্যাকান্ডে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও মো. সুজন।২৭ এপ্রিল র্যাব-১১ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেলিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাগ ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, ফোরজিং হ্যামার, প্লায়ার্স, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা রাতে যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজি তে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত।ঘটনার দিন গভীর রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় ওৎ পেতে থাকা আসামিরা বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিতে তুলে নেয় রাত ১১ টার দিকে। পরে চলন্ত সিএনজির ভেতরে তাকে আঘাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা এবং মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ঝাগুড়ঝুলি এলাকায় তাকে চলন্ত গাড়ি হতে ফেলে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ছিনতাই ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১১।
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত