প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
নরসিংদীতে ৯ দিনেও অধরা মূল আসামিরা: আশিক হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
হৃদয় এস সরকার নরসিংদী।, প্রতিনিধি । ||
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকের মধ্যেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ যুবক আশিক ভূঁইয়াকে। এ ঘটনায় ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনো তাদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি।এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আজ সকালে পলাশ উপজেলায় মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে শত শত মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধনে আশিকের ছবি প্রদর্শন করা হয় এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন এলাকার একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে রাকিব ও আরমান নামের দুই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিকল্পিতভাবে আশিককে বাড়ি থেকে ফোন করে কথা বলার অজুহাতে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন।আশিক সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাকিব ও আরমানের সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আশিককে হত্যা করা হয়। তারা কেউই হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেনি, যা তাদের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি—এটি চরম ব্যর্থতা।” দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।বক্তারা আরও জানান, হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন রুহুল আমিন ও রিয়াদ ফকির। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহারভুক্ত প্রধান অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন—সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতা সাগর, তার পিতা ইউনুস আলী, মিন্নত আলী এবং ছোট ভাই সোহাগ। এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী এই চক্রের কারণেই আসামিরা এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “৯ দিন ধরে আমরা ঘুমাতে পারি না, অথচ খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাকিব ও আরমান ফোন করে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কসাইদের হাতে তুলে দিয়েছে। আমরা বিচার চাই—খুনি সাগরের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”এলাকাবাসীর দাবি, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে সব আসামি ও সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন এলাকাবাসীর মধ্যে মনা ফকির, আমজাদ, শহীদ ফকির, বাচ্চু ফকিরসহ আরও অনেকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই