প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়েছে: সি
আন্তর্জাতিক: ||
৮জুন (সোমবার), উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, সেদেশের পত্রিকা 'লোডং সিনমুন'-এ ‘ঐতিহ্য উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যতের পথে একসাথে এগিয়ে যাওয়া: চীন-উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় রচনা’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ লেখেন। নিবন্ধটিতে তিনি বলেছেন:“এ বছর ‘চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরের ৬৫তম বার্ষিকী। উত্তর কোরিয়ার লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রীয় কমিশনের চেয়ারম্যান কমরেড কিম জং-উনের আমন্ত্রণে, আমি শীঘ্রই উত্তর কোরিয়ায় একটি রাষ্ট্রীয় সফর করব। এটি হবে সুন্দর উত্তর কোরিয়ায় ৭ বছর পর আমার আবার সফর। চীন ও উত্তর কোরিয়া পরস্পরের অভিন্ন কল্যাণের সমাজতান্ত্রিক বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীরাষ্ট্র। যুগ যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব সর্বদা অটুট এবং সময়ের সাথে সাথে দৃঢ় ও প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ ছিল, আছে, ও থাকবে। সর্বোচ্চ স্তরের কৌশলগত নেতৃত্ব, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি। ইতিহাসে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার প্রবীণ নেতারা পরস্পরকে জানতেন ও বুঝতেন এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, আমি কিম জং-উনের সঙ্গে ৬ বার সাক্ষাত্ করেছি, ঘনিষ্ঠ কৌশলগত যোগাযোগ বজায় রেখেছি, এবং যৌথভাবে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নৌযান, সর্বোচ্চ নেতাদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায়, নিশ্চয়ই বাতাস ও ঢেউ উপেক্ষা করে দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাবে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও উত্তর কোরিয়ার লেবার পার্টি মার্কসবাদী দুটি শাসকদল এবং চীন ও উত্তর কোরিয়া সমাজতন্ত্রের পথে একে অপরের সঙ্গী। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, উভয় পার্টি ও রাষ্ট্র যৌথভাবে, নিজ নিজ পার্টি ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বাস্তবসম্মত বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করবে। এতে দেশের সমৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের সুখ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং সমাজতন্ত্রের উল্লেখযোগ্য সুবিধা ও উজ্জ্বল সম্ভাবনা প্রদর্শিত হবে। উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক দীর্ঘমেয়াদী শান্তি এবং বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রচার করা উভয় পার্টি ও রাষ্ট্র এবং উভয় দেশের জনগণের যৌথ লক্ষ্য। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, চীন ও উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করলে, দু’দেশ নিশ্চয়ই শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন ও পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতার সঠিক পথে একসাথে এগিয়ে যেতে পারবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি এবং উত্থান-পতনে ভরা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখে, চীন ও উত্তর কোরিয়া নিজেদের কাজ ভালোভাবে করার দিকে মনোনিবেশ করেছে এবং সমাজতান্ত্রিক পথে কঠোর পরিশ্রম ও অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। চীন ‘পঞ্চম পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের পথে একটি ভালো সূচনা করেছে এবং চীনা আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; দ্বিতীয় শত বছরের লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে বড় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার লেবার পার্টি সফলভাবে নবম কংগ্রেস আয়োজন করেছে; কোরিয়ার দল ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে; এবং সমাজতন্ত্রের ব্যাপক উন্নয়নের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। বর্তমানে, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে। চীন উত্তর কোরিয়ার সাথে, কৌশলগত উচ্চতা থেকে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বুঝতে এবং সময়ের সাথে সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বৃহত্তর উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক। আর এর জন্য: - কৌশলগত যোগাযোগ আরও গভীর করতে হবে এবং চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নের সঠিক দিকনির্দেশনা দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করতে হবে। ‘চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরের ৬৫তম বার্ষিকীকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে, পার্টি, সরকার ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ ও স্তরের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় জোরদার করতে হবে; উভয় পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়ন করতে হবে এবং চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করতে হবে; —বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা জোরদার করতে এবং যৌথভাবে উভয় দেশের সমাজতান্ত্রিক ক্যারিয়ারকে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী করা জরুরি। পার্টির পূর্ণ নেতৃত্বে অটল ও শক্তিশালী থাকতে হবে, উভয় পার্টির মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা প্রসারিত করতে হবে, পার্টি ও রাষ্ট্র শাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা গভীর করতে হবে; —বাস্তবসম্মত সহযোগিতা প্রসারিত করতে এবং ক্রমাগতভাবে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করা দরকার। উভয় দেশের উন্নয়নকৌশলের সমন্বয়কাজ জোরদার করতে হবে; সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা উন্মোচন করতে হবে; সুযোগ ভাগ করে নিতে হবে; উন্নয়ন এগিয়ে যেতে হবে; এবং উভয় দেশের জনগণকে আরও ভালোভাবে সেবা দিতে হবে; - বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ঘনিষ্ঠ করা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন। কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে হবে; জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা যৌথভাবে রক্ষা করতে হবে; আধিপত্যবাদ ও শক্তির রাজনীতি এবং সামরিকবাদ পুনরুজ্জীবন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলে এমন সব আচরণের বিরোধিতা করতে হবে। আমরা উত্তর কোরিয়ার কমরেডদের সাথে হাত মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে ও নতুন অধ্যায় রচনা করতে চাই, যাতে চীন-উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব আরও উজ্জ্বল সময়ের আভা ছড়ায় এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে বৃহত্তর অবদান রাখতে পারে।” সূত্র:জিনিয়া-আলিম-তুহিনা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই